‘এবারের বাজেট ব্যবসা ও পুঁজিবাজার বান্ধব’  

23
২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটকে ব্যবসা ও পুঁজিবাজার বান্ধব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. রকিবুর রহমান।
গতকাল এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর যে বাজেট পেশ করেছেন আমি মনে করি এটা অত্যন্ত ব্যবসা বান্ধব এবং পুঁজিবাজার বান্ধব বাজেট। এখন আমরা যদি লক্ষ্য করি, আপনারা হয়তো জানেন প্রধানমন্ত্রী যে ছয়টা নির্দেশ দিয়েছিলেন পুঁজিবাজারকে  নিয়ন্ত্রণ করার জন্য  ২০০ কোটি এবং প্রত্যেকটা  মার্চেন্ট ব্যাংক এবং আইসিবিকে  কিভাবে শক্তিশালী করা যায় সেজন্য। এর  কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়? এরকম নির্দেশনা দিয়েছিলেন সেটা আমি পুনর্ব্যক্ত  করেছি এবং দ্বিতীয়তঃ অর্থমন্ত্রী  যে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়ার কথা বলেছিলেন গত পার্লামেন্টে বা পাস করেছিলেন  সেটার সুফল আমরা কিন্তু  পেতে শুরু করেছি। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান এবং লিস্টেড কোম্পানি এখন ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিতে হচ্ছে আবার বোনাস দিতে পারছে। কিন্তু ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়ার কথা।
তিনি আরো বলেন, এবার অর্থমন্ত্রী যে বাজেট আমাদের উপহার দিয়েছেন পুজিবাজার অতএব চট্টগ্রামে যেটা দিয়েছেন  বন্ড মার্কেটে।  এতোদিন আমরা শুধু ইকুইটি মার্কেট এর উপর নির্ভরশীল ছিলাম, কারো কোন অল্টারনেট ছিলনা  যে সে গিয়ে ইকুইটি মার্কেট এর বাইরে গিয়ে বিনিয়োগ করবে। অতএব বন্ড মার্কেটকে এবার শক্তিশালী  করার জন্য অর্থমন্ত্রী  কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছেন পুনরায় বন্ড মার্কেটকে আরো শক্তিশালী করার জন্য। এছাড়া  বন্ড মার্কেটকে অনেকটা সহজীকরণও করেছেন। এখন আপনি যদি বড় কোন প্রতিষ্ঠানে যান এবং তাদের যদি সক্ষমতা থাকে, তাদের যদি ক্যাশ প্রো ভালো থাকে, তাদের যদি এসেট স্ট্রং থাকে তাহলে তারা ব্যাংক থেকে টাকা না নিয়ে বন্ড মার্কেট থেকে টাকা নিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে পারবে। অতএব  বন্ড মার্কেট তাদের বিনিয়োগকারীদের একটা  ভালো ডিভিডেন্ড দিতে পারবে।  অর্থাৎ এই বন্ড মার্কে টা যেন পুঁজিবাজারে সহজভাবে ট্রানজেকশন হতে পারে অর্থমন্ত্রী সেটার সুযোগ করে দিয়েছেন।
পুঁজিবাজারে এটি একটা বিশাল সুযোগ মনে করে তিনি বলেন, এটা একটি বিশাল ব্যাপার আমি মনে করি এটা পুঁজিবাজারের জন্য বিনিয়োগকারীদের জন্য একটা ভালো সুযোগ। আগে কিন্তু  আমাদের ইকুইটি মার্কেট এর বাইরে কিছু ছিল না।  এছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থমন্ত্রী যেটা বলেছেন যে অপ্রত্যাশিত টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ। উনি বলেছে ১০% বিনিয়োগ করে কেউ যদি ফরমালিটিজ মেন্টেইন করে পরে টাকাটা ৩ বছর রেখে বিনিয়োগ  করে তাহলে তা পারবে। এক্ষেত্রে যেটা করনীয় সেটা হলো, কন্ডিশন দিয়েছে এখানে যেটা ক্লিয়ার করেছেন সেটা হচ্ছে এনবিআর বা অন্য কোন সংস্থা এটার সম্পর্কে কোন প্রশ্ন করতে পারবে না। এটা কোথা থেকে পান? বা কোথা থেকে বিনিয়োগ  করবেন?
রকিবুর রহমান বলেন, সেখানে তিনি আরো বলেছেন যারা বিনিয়োগ করেছেন কিন্তু টেক্সে তা দেখাননি, আবার  ফ্রী ডিপোজিটে বিনিয়োগ করেছেন অথচ ট্যাক্সে দেখান নি অথবা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনি বিনিয়োগ করেছেন কিন্তু টেক্স দেখেননি। সেক্ষেত্রে আপনি ১০% দিয়ে  আপনার টাকাটা হালাল করার সুযোগ করে দিয়েছে।  অর্থাৎ টাকাটাকে এক্সেপ্ট করে নিয়েছে। এখানে আমাদের বুঝতে হবে। অর্থনীতির এই পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী যেটা ঘোষণা দিয়েছেন এটা অত্যন্ত ভালো যে অপ্রত্যাশিত টাকা সাদা করার সুযোগ৷ ধরুণ বিভিন্ন জায়গায় ছিল  টাকা, কেউবা আবার ফিক্সড ডিপোজিট করে রেখেছিল আবার ওই টাকাগুলো নিয়ে বিভিন্ন টেনশনে ছিল পেরেশানিতে ছিল। অতএব অর্থনীতির এই মূল টাকাটাকে যেটা অর্থনীতিতে বলে টোটাল ১০% পার্সেন্ট অপ্রত্যাশিত টাকা।
তিনি বলেন, আমি মনে করি যারা যেভাবেই যেখানে রাখুক না কেন  তাদের জন্য একটি বড় ধরনের সুযোগ এসেছে এটা হল সবচেয়ে বড় কথা। অর্থমন্ত্রী কিন্তু বলেছেন যারা ফিক্সড ডিপোজিট এর টাকা,  সঞ্চয়পত্রের টাকা বিনিয়োগ  করতে পারছেন না বা সেই টাকাটা  আপনি যেখানে রেখেছেন তার কোন ডিক্লারেশন নাই, আবার সেই টাকাটা বিনিয়োগ  বা সাদা করার পরও আপনি কিন্তু কোন কন্ডিশন পান নাই সেক্ষেত্রে এটা  বড় সুযোগ। অনেক জায়গায় বিনিয়োগ করতেন আগে কিন্তু অনেক কন্ডিশনও ছিল, যেমন আপনি ইপিজেডে বিনিয়োগ করবেন  বা আইটিতে বিনিয়োগ করবেন  বা ফ্ল্যাটে। কিন্তু এখন  আপনাকে ফ্রি করে দিয়েছে অর্থাৎ আপনার অপ্রত্যাশিত টাকাটা এখন একটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলো।  সাদা হয়ে মেইনস্ট্রিমে চলে আসলো।
তিনি আরো বলেন, অর্থাৎ এনবিআর এটা প্রশ্ন করতে পারবে না  এমবি আর কেন কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না। অতএব ক্লিয়ার এখন  আপনি এই টাকাটা কোথায় বিনিয়োগ করবেন এখন এটা আপনার সিদ্ধান্ত। পুঁজিবাজারের ব্যাপারে বলা হয়েছে ১০% দিয়ে তিন বছর সেখানে রাখতে হবে টাকাটা। আর অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন আপনার ফ্রী ডিপোজিটে ১০ কোটি টাকা আছে মনে করেন, ১০% দিয়ে ১ কোটি দিয়ে বাকি টাকা হোয়াইট মানি করে ফেললেন। তো সেখানে আপনি কোথায় বিনিয়োগ করবেন সেটা আপনার কোন কন্ডিশন নেই। অতএব অর্থমন্ত্রী এখানে একটা বড় ধরনের সুযোগ করে দিয়েছে। আমি মনে করি এই যে আমাদের অর্থমন্ত্রী বাস্তবতার আলোকে আজকে যে একটা ব্যবসা বান্ধব পুঁজিবাজার বান্ধব একটা বাজেট দিয়েছেন এটার জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। আমি  এজন্য অভিনন্দন জানাই যে পরবর্তীতে এটাকে আরো কতটুকু সহজ করা যায় আরো কোথাও ইজি করা যায় কিনা  সেক্ষেত্রে অবশ্যই আমরা অর্থমন্ত্রী কে সহযোগিতা করব।
অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,  আমি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই আপনি সবসময়ই পুঁজিবাজারকে এস্টাবলিশ করতে চেয়েছেন, পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে চেয়েছেন এবং পুঁজিবাজারের মাধ্যমে  লং-টার্ম বিনিয়োগ শিল্প ক্ষেত্র করার চেষ্টা করেছেন। টাকা নেয়ার জন্য এখন আর ব্যাংক খাত থেকে নিতে হবে না। অর্থমন্ত্রী  আজকে যে সুযোগটা করে দিয়েছেন  এই সুযোগের  ফলে প্রমাণিত হবে যে আগামী  এক বছরে ইনশাল্লাহ বড় ধরনের সুযোগ আসবে পুঁজিবাজারে। ইন্ডাস্ট্রিতে বলেন, পাওয়ার সেক্টর বলেন বিভিন্ন  জায়গাতে টাকা এখন বন্ড মার্কেট এর মাধ্যমেও আসবে আবার সেটা পুঁজিবাজারের মাধ্যমেও আসবে।  ব্যাংক ব্যবস্থায় কাউকে যেতে হবে না। তাতে করে  সরকারের পক্ষে  সহজ হবে কেননা এবার করোনা ভাইরাস এর জন্য যেসব টাকা প্রয়োজন সেগুলো সরকার অনায়সে নিতে পারবে।
উল্লেখ্,   এই বাজেট কে অভিনন্দন জানাই সাথে অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই উনি যুগোপযোগী একটি বাজেট দিয়েছেন যেটা ব্যবসা-বান্ধব ও পুঁজিবাজার বান্ধব।