hasina

কাতারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত সৌদি আরবের

15

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান জানান, উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশ কাতারের সাথে তিন বছর ধরে চলমান দ্বন্দ সমাধানের পথে।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সাথে এক আলোচনার পর তিনি একথা জানান।

২০১৭ সালে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ কাতারের সাথে কূটনৈতিক, ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি স্থল, পানি ও আকাশ পথে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয়।

দ্য ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নেয়ার ইস্ট পলিসি আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আমরা সমাধানের পথ বের করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা কাতারের ভাইদের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ইচ্ছুক।  আর আমরা মনে করি তারাও আমাদের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ইচ্ছুক।

প্রিন্স ফয়সাল বলেন, কিন্তু আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই, নিরাপত্তা নিয়ে চার দেশ যে প্রশ্ন তুলেছে তার সমাধানের পথ ধরেই নিকট ভবিষ্যতে একটি সমাধান আসবে। আমরা সমাধান খোঁজে পেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

চার দেশ কাতারকে “সন্ত্রাসবাদ” সমর্থন করার এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ এনেছিল। এছাড়াও দোহার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সাথে বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়ারও অভিযোগ ছিল।

যদিও কাতার এই দাবিগুলোকে তীব্রভাবে অস্বীকার করেছে।

এই বিরোধের অবসান ঘটাতে অতীতের বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কাতার অবরোধের অবসান ঘটিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কাতার অবরোধকারী দেশগুলোর দাবি সমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক বন্ধ করা, ইসলামপন্থী দলগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা, ইরানের সাথে সম্পর্ক সীমাবদ্ধ করা এবং কাতারে অবস্থিত তুর্কি সেনাঘাঁটি বন্ধ করা।

কাতারি আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেছেন যে কূটনৈতিক সংকট নিরসনে তার দেশ সংলাপের জন্য প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঙ্কটের যে কোন সমাধানে যাওয়ার আগে অবশ্যই কাতারের সার্বভৌমত্বকে সম্মান দেখাতে হবে।

গত জুনে, কাতার ও অবরোধকারী চার দেশের মধ্যস্থতাকারী দেশ কুয়েত বলেছিল, এই পরিস্থিতি সমাধানের দিকে যাচ্ছে। তার তা খুবই ধীর গতিতে হচ্ছে।

প্রিন্স ফয়সাল গত বুধবার মার্কিন-সৌদি কৌশলগত সংলাপের জন্য ওয়াশিংটন সফর করেন। যার মধ্যে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “সর্বোচ্চ চাপ” প্রয়োগ ও ইয়েমেনের যুদ্ধ সম্পর্কিত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা