hasina

পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে তিক্ততায় হুমকিতে তুরস্কের অর্থনীতি

15

তুরস্কের সঙ্গে ফ্রান্সের দ্রুত অবনতি হওয়া পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টিও তুর্কি বাজারে উদ্বেগের কারণ বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারীর পর ন্যাটো সামরিক জোটের মিত্রদের সঙ্গে তুরস্কের বিরোধের জের ধরে ডলারের অনুপাতে তুরস্কের মুদ্রার রেকর্ড পরিমাণ দরপতন হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান সাম্প্রতিক বক্তব্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক তৈরি করেছেন। এতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিবিসি জানায়, তুরস্কের মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি গত মাসে ছিল ১১.৭ শতাংশ। সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অসম্মতির বিষয়টিকে এর কারণ হিসেবে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সুদের হার বাড়ানো মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনতে পারে এবং তুরস্কের মুদ্রা লিরা কিনতে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, লিবিয়া, সিরিয়া, সাইপ্রাসের আশপাশে এবং ককেশাস অঞ্চলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের শক্তি প্রদর্শনের কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক ব্যবসা করা একজন তুর্কি নাগরিক বলেন, ‘তুরস্কের মুদ্রা লিরা দুর্বল হয়ে যাওয়ার পেছনে নতুন কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা।’

তুরস্কের রাবো ব্যাংকের একজন বিশ্লেষক পিওতর ম্যাটিস বলেছেন, তুরস্কের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন বিজয়ী হলে ‘রাশিয়া থেকে এস-৪০০ (অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট) মিসাইল সিস্টেম কেনার কারণে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে’।

পাশাপাশি ‘তুরস্কের সঙ্গে ফ্রান্সের দ্রুত অবনতি হওয়া পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টিও বাজারে উদ্বেগের কারণ’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এই বছরে তুরস্কের মুদ্রা লিরা ২৬ শতাংশ মান হারিয়েছে। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুদ্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে গত ১৮ মাসে তারা ১০ হাজার কোটি ইউরোর বেশি অর্থ ব্যয় করেছে।

তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কিন্তু সাইপ্রাসে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়ায় ইইউ নেতারা এরদোয়ানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

এ নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ বিশেষভাবে সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের।

রবিবার এরদোয়ান ফরাসি মুসলিমদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন ফরাসি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে। এরপর ফরাসি পণ্য বর্জন করার জন্য আরব বিশ্বের সঙ্গে সুর মেলান।

করোনাভাইরাসও তুরস্কের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একদফা খারাপ পরিস্থিতি পার করে আসার পর তুরস্কের করোনা সংক্রমণের মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও গত কিছুদিন ধরে ইউরোপের অন্যান্য জায়গার মতো আবারও সেখানে সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে।

পাশাপাশি লিরার দরপতন ঠেকাতে শত শত কোটি ডলার বিক্রি করে দেওয়ায় তুরস্কের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বছরেই তুরস্কের অর্থনীতির বড় ধরনের সংকোচন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে তুরস্কের ব্যবসায়িক মিত্র রাশিয়ার সঙ্গে এরদোয়ানের সম্পর্কের উষ্ণতাও ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে অনেকটাই শীতল হয়েছে।

লিবিয়া ও সিরিয়ায় চলমান দ্বন্দ্বে তুরস্ক ও রাশিয়া বিরোধী পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে। আবার আর্মেনিয়ার দখলে থাকা নাগরনো-কারাবাখ নিয়ে চলমান যুদ্ধে তুরস্ক সরাসরি আজারবাইজানকে সমর্থন দিচ্ছে।