পিকে হালদারের ৬২ সহযোগীর টাকা ফ্রিজ

১৭

অর্থ পাচারের অভিযোগে কানাডায় পলাতক ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের ৬২ সহযোগীর এক হাজার কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদক প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান কমিশনের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

দুদক সচিব বলেন, তাদের প্রায় এক হাজার ৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

পিকে হালদারের ইস্যুটা অনেক বড় জানিয়ে দুদক সচিব বলেন, পিকে হালদারকে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক নতুন তথ্য পাচ্ছি। আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্য থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি মোটামুটি ৬২ জনের সঙ্গে তার লিংক আছে।

পিকে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে দুদক সচিব বলেন, গতাকাল আমরা ধানমন্ডি থেকে পিকে হালদারের সংশ্লিষ্টতা আছে এমন একজন নারীকে গ্রেফতার করেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ হয়ে গেলে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারবো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিকে হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকা অবস্থায় আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে থাকা ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কৌশলে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি ও তার সহযোগীরা। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে। কিন্তু ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি কানাডায় পলাতক রয়েছেন। তবে ইতিমধ্যে তথ্য প্রমাণের সাপেক্ষে কমিশন তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে।

এদিকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদারের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ধানমণ্ডির দুটি ফ্লাটসহ পিকে হালদারের স্থাবর সম্পদগুলো ক্রোকের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন এ আবেদন করেন।

পি কে হালদারকে গ্রেফতারে ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। তার মা লীলাবতী হালদার এবং অবন্তিকা বড়ালসহ ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট।