কৃষি আইন স্থগিতে বাধ্য হলো ভারত

আন্দোলনরত কৃষকদের অনড় অবস্থানের মুখে অবশেষে পিছু হটেছে ভারত সরকার। আগামী দেড় বছরের জন্য বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন স্থগিত করতে রাজি হয়েছে দেশটি। তবে আজ বৃহস্পতিবার সব কৃষক সংগঠনগুলি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আগামীকাল ২২ জানুয়ারি সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবে।

ভারত সরকার আশ্বাস দিয়েছে, এই মর্মে তারা শীর্ষ আদালতে হলফনামা দিতে রাজি। তবে অবিলম্বে সরকার-বিরোধী কৃষক আন্দোলন প্রত্যাহার করতে হবে।

আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে সরকারের দশম বৈঠকের পরে মোদি সরকারের কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেছেন, ‘খুব ভালো পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। কৃষকরা সরকারের প্রস্তাবকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। বৃহস্পতিবার কৃষক নেতারা নিজেদের সংগঠনের সব সদস্যদের সঙ্গে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন, পরের দিন আমরা আবার বৈঠকে বসব।’ কিছুটা হলেও সন্তুষ্ট কৃষক প্রতিনিধিরাও।

কৃষক নেতা হান্নান মোল্লা বলেছেন, ‘আগের নবম বৈঠকেও কোন অগ্রগতি হয়নি, এদিন সামান্য হলেও হয়েছে। দেড় বছরের জন্য আইন স্থগিত, এমএসপি নির্ধারণের জন্য কমিটি গঠন, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দেওয়ার কথা বলা- সরকারের প্রস্তাবগুলি ভালো। ওয়ান স্টেপ ফরওয়ার্ড বলা চলে।’ কৃষক নেতা অভিমন্যুও বলেছেন, ‘এত দিনে সরকারের দিক থেকে একটি গঠনমূলক প্রস্তাব এসেছে। আমাদের সব সংগঠন সরকারের এই প্রস্তাব বিবেচনা করবে।’

পাঁচ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কৃষক সমস্যা মেটাতে মোদি সরকার যে মরিয়া, তার আভাস মিলেছিল আগেই। বুধবার ছিল শিখদের দশম গুরু গোবিন্দ সিংয়ের আবির্ভাব দিবস। এদিন বৈঠকের একেবারে শুরুতেই সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে সুর নরম করে কেন্দ্র। কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেন, এই দিনটিকেই কৃষক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বেছে নেওয়া হোক। এর পরেই সরকারের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয় দেড় বছরের জন্য বিতর্কিত কৃষি আইনগুলি স্থগিত করার। কৃষকদের অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেয় সরকার। এর পরেই কৃষকরা সরকারের প্রস্তাব ভেবে দেখার জন্য সময় চান।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবড়ে জানিয়ে দিয়েছেন, প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির রাস্তায় কৃষকদের প্রস্তাবিত ট্র্যাক্টর মিছিলের বিষয়ে তাঁরা কোনও ভাবেই হস্তক্ষেপ করবেন না। কেন্দ্রের অধীন দিল্লি পুলিশকে তাদের আবেদন প্রত্যাহার করার নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সূত্র : এই সময়।