‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি চীনের

6

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেরকে ‘শীতল যুদ্ধ’ মানসিকতা বাদ দিতে এবং বৈশ্বিক সমৃদ্ধির স্বার্থে বিভেদ সৃস্টি থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছেন। সোমবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের দাভোস সম্মেলনের ভার্চুয়াল ইভেন্টে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফেরামের ওই সভায় জিনপিং গত বছরের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিগুলোই শুধু তুলে ধরেন। বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি নিজেকে বহুত্ববাদের রক্ষক বলে দাবি করেন। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশের নেতারা যেন নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ উসকে না দেন, সে ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জিনপিং। তিনি কারো নাম উল্লেখ না করলেও এই সতর্কবার্তা নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্দেশে বলেই মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। বাইডেন অবশ্য এবারের দাভোস ফোরামে অংশগ্রহণ করেননি। সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে চার বছর আগে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণ করেন, সে সময়ও চিনপিং একইভাবে দাভোস ফোরামে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

চীনের ক্রমবর্ধমান অথনৈতিক প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই তৎপর। বাইডেন প্রশাসনও একই ধারা বজায় রাখবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বিষয়টি মাথায় রেখে জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নেতাদের বলেন, ‘অন্যদের হুমকি দেয়ার জন্য ছোট ছোট দল গঠন কিংবা স্নায়ুযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি বিশ্বকে শুধু বিচ্ছেদের দিকে নিয়ে যাবে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, জাপান এবং ভারত সহ চারটি দেশের একটি জোট ‘কোয়াড’ – এ অস্ট্রেলিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়েই জিনপিং এই মন্তব্য করেন। চীনের অর্থনৈতিক উত্থান বিশ্বব্যাপী মঞ্চে বেইজিংয়ের নীতি নিয়ে চিন্তিত ওই চার দেশ গত বছর ‘কোয়াড’কে কেন্দ্র করে পাস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরালো করেছে।

নিজস্ব আধিপত্য অর্জনের পরিবর্তে বিশ্বকে আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক নিয়মের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জিনপিং বলেন, ‘চীন আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে মতবিরোধ সমাধানের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্যতা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সমবায় সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে কঠোর প্রচেষ্টা করছে।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে এবং জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আমাদের অবিচল থাকতে হবে।’

দাভোসের এবারের ফোরামে অংশ নেয়া ইউরোপীয় নেতারা নিজেদের এজেন্ডাগুলো তুলে ধরেন। সাধারণত দাভোসে সুইস স্কি রিসোর্টে আয়োজিত হলেও এবারের সভা হচ্ছে ভার্চুয়ালি। ফোরামে জার্মানির অর্থমন্ত্রী পিটার অল্টমেয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের একটি বিতর্কিত চুক্তির পক্ষে কথা বলেন। চুক্তিটি গত বছর স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির বিরোধিতাকারীদের ভাষ্য, চীন জোরপূর্বক শ্রম বন্ধ করলে তবেই দেশটি আরো বিস্তৃতভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জড়িত হওয়ার সুযোগ পাবে। সূত্র: ইয়াহু নিউজ, এএফপি।