সুয়েজ খাল বন্ধে ক্ষতি ১০০ মিলিয়ন ডলার

সুয়েজ খাল বিশ্ব বাণিজ্যের সবচেয়ে ব্যস্ততম পথগুলোর একটি। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার সংক্ষিপ্ততম এ জলপথ দিয়ে বিশ্ববাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন প্রায় হাজার কোটি টাকার ডলার মূল্যের পণ্য পরিবহন হয়। এর মধ্যে আটকে যাওয়া এভারগ্রীণ জাহাজই প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পণ্য পরিবহন করে। জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাণিজ্যে। প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ টন জ্বালানি তেল এবং বিশ্বের মোট তরলীকৃত জ্বালানি গ্যাস এই খাল দিয়ে পার হয়।

সুয়েজ খালে আটকে পড়া জাপানী কোম্পানির জাহাজ এভারগ্রীন।
গত মঙ্গলবার জাপানী কোম্পানির এভারগ্রীন জাহাজটি আড়াআড়িভাবে ১২০ মাইল লম্বা সুয়েজ খালের বালুতে আটকে যায়। এতে এক সপ্তাহ আটকে ছিল প্রায় ৩৬৯টি মালবাহী জাহাজ। খাল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন তাদের গড়ে ১৫ মিলিয়ন (এক কোটি ৫০ লাখ) ডলার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের প্রধান ওসামা রাবি। বহু দেশে অভ্যন্তরীণ পরিবহন, সুপারমার্কেটের মত খুচরা ব্যবসা বা পণ্য উৎপাদনকারী অসংখ্য প্রতিষ্ঠান লোকসানে পড়েছে।

জানা গেছে, এক সপ্তাহে বিশ্ব বাণিজ্যে ৬০০ কোটি ডলার থেকে ১০০০ কোটি ডলারের লোকসান হয়েছে। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি ০.২ থেকে ০.৪ শতাংশ কমে যেতে পারে বলছে জার্মান বীমা কোম্পানি অ্যাল্যায়াঞ্জ। এছাড়াও জাহাজ ভাড়া বেড়ে গেছে ৪৭ শতাংশ।

লয়েডস লিস্টে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯৬০ কোটি ডলারের ব্যবসা বন্ধ ছিল। তার অর্থ প্রতি ঘণ্টায় ৪০ কোটি ডলার এবং ৩৩ কোটি টন পণ্যের ব্যবসা আটকে রয়েছে।

ন্যাশনাল কাস্টমস ব্রোকারস অ্যান্ড ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার উপকমিটির চেয়ারম্যান রিচার্ড রোচে বলেন, মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত বাজারের জন্য এটি বিধ্বংসী ঘটনা। এ ঘটনা উচ্চ চাহিদার এ সময়ে আমদানি পণ্যগুলোকে মাঝসমুদ্রে আটকে দিয়েছে।

কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সুয়েজ খাল লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্ত করেছে। ১২০ মাইল দীর্ঘ এ নৌপথ ৩ হাজার ৫০০ মাইলের পথ বাঁচিয়ে দিয়েছে। কভিড-১৯ মহামারীর ধকল সামলে বিশ্ববাণিজ্য কেবল ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। বিস্তৃত হচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এমন এক পরিস্থিতিতে সুয়েজ খালে ব্যাঘাত বিশ্ববাণিজ্যে নতুন করে ধাক্কা দিয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে ইউরোপের উৎপাদন ও গাড়ি খাত। ফলে এরই মধ্যে বেশকিছু পণ্যের সংকট তৈরি হয়েছে। বেড়ে গেছে জ্বালানি তেল, এলএনজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম।