বিমার আওতায় আসছে মার্জিণ ঋণ

365

মার্জিণ ঋণ গ্রহীতাদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মার্জিণ ঋণের বিপরীতে বিমা সুবিধা নিয়ে কাজ করছে বিএসইসি। গতকাল দেশের শীর্ষ ব্রোকারদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন বিএসইসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে পারপিচ্যুয়াল বন্ডকে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমার বাহিরে রাখার আহ্বান জানান শীর্ষ ব্রোকাররা।

অনলাইনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম, উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ প্রায় ৩০টি ব্রোকার হাউজের সিইওরা অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ ব্রোকারদের সাথে আলোচনায় পাবলিক ইস্যু রুলস, মার্জিণ ঋণ, মার্জিণ ঋণের বিপরীতে বিমা সুবিধা, নেগেটিভ ইক্যুইটি, পারপিচ্যুয়াল বন্ড, লেনদেনের চার্জ, ডিএসইর অনলাইন সমস্যাসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের অন্যতম একটি বিষয় ছিলো মার্জিণ ঋণের বিপরীতে গ্রাহকদের বিমা সুবিধা দেওয়া। এটি কীভাবে দেওয়া যায়, তা নিয়ে কমিশন কাজ করছে। বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শীর্ষ ব্রোকাররা। তাদের মতে এটি করা গেলে বিনিয়োগকারীরা অনেক লাভবান হবেন।

এ বিষয়ে ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান বলেন, বিএসইসির সাথে আমাদের অনেক ভালো আলোচনা হয়েছে। পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে বাজারকে আরও গতিশীল করা যায় সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের স্বার্থে আমরা অনেক বিষয় কমিশনকে অবহিত করেছি। কমিশন বিষয়গুলোকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে। বিশেষ করে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো যে পারপিচ্যুয়াল বন্ডে বিনিয়োগ করে তা এক্সপোজারের বাহিরে রাখার জন্য অনুরোধ করেছি। অন্যদিকে কমিশন মার্জিণ ঋণের বিপরীতে বিমা সুবিধার কথা বলেছে। এটি করা গেলে পুঁজিবাজারের জন্য অনেক ভালো হবে বলে আমরা মনে করি।

বৈঠকের বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, কমিশন চায় আগামীতে যাতে আর কোন ধরণের নেগেটিভ ইক্যুইটি না থাকে। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। মার্জিণ ঋণের বিপরীতে কীভাবে গ্রাকদের বিমা সুবিধা দেওয়া যায় তা নিয়ে কাজ করছে বিএসইসি।

তিনি আরও বলেন, শীর্ষ ব্রোকারদের সাথে আলোচনায় পাবলিক ইস্যু রুলস, মার্জিণ ঋণ, নেগেটিভ ইক্যুইটি, পারপিচ্যুয়াল বন্ড, লেনদেনের চার্জ, ডিএসইর অনলাইন সমস্যাসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিশন সবার কথা মনযোগ দিয়ে শুনেছেন।

সভায় ধীরে ধীরে লেনদেন বৃদ্ধির বিষয়টিকেও তুলে ধরা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, আগে প্রতি হাওলায় ৩৫-৪০ হাজার টাকার লেনদেন হতো। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সেটা ৬০ হাজারে উন্নিত হয়েছে। যা গত ২ কার্যদিবসে ১ লাখে উন্নিত হয়েছে। এই লেনদেনের ধারাকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে।

বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, মার্জিণ ঋণের বিপরীতে বিমা কাভারেজ নিয়ে কাজ চলছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের যারা আমানতদাতা বা ডিপোজিটর আছেন, তাদের ক্ষেত্রে এমন একটি আইন আছে। আমানতের বিপরীতে বিমা সুবিধা। আমরাও মার্জিণ ঋণের বিপরীতে এমন কিছু করতে চাই। এটি নিয়ে কমিশনে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিমার মাধ্যমে নিয়ে আসতে চাই। এটি করা গেলে তাদের ক্ষতির পরিমাণ কম হবে। যদিও বিষয়টি এখন পর্যন্ত প্রাথমিক আলোচনার মধ্যে রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের ভালো রাখার জন্যই কাজটি করতে চাই।

রেজাউল করিম বলেন, ব্রোকাররা লেনদেনকৃত অর্থের পরিবর্তে সিকিউরিটিজের উপর সিডিবিএল চার্জ নির্ধারনের জন্য অনুরোধ করেছে। এছাড়া মার্জিণ ঋণের নেগেটিভ ইক্যুইটির অ্যাকাউন্টে লেনদেনের যে সুযোগ দেওয়া আছে, তা বাড়ানোর জন্যও বলেছেন। কমিশন এ বিষয়ে যাচাই করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিন করোনার কারনে বিনিয়োগকারীরা অনলাইনে লেনদেন করতে গিয়ে ডিএসইর মোবাইল অ্যাপে সমস্যায় পড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয় বলে জানান বিএসইসির এই নির্বাহী পরিচালক। যা সমাধানে ডিএসই কাজ করছে বলে স্টক এক্সচেঞ্জটির এমডি জানিয়েছেন।

এছাড়া অ্যাকাউন্টস যেনো নেগেটিভ না হয়, তার জন্য করণীয় পদক্ষেপ জন্য কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান মুখপাত্র রেজাউল করিম।