এডিশনাল এসপি মাহমুদার মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি’র ডিগ্রি অর্জন

29

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি থেকে অপরাধবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন রাঙামাটি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম। গত ৩১ আগস্ট মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবী এই কর্মকর্তা।

২০১৯-২০ সালের বাংলাদেশ সরকারের দেয়া প্রধানমন্ত্রী স্কলারশিপ (পিএম) পেয়ে অপরাধবিজ্ঞানে (Criminology) স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) অধ্যয়ন করতে ২০২০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ইউনিভাসিটিতে যান মাহমুদা বেগম।

দীর্ঘ দেড় বছর অধ্যয়ন শেষে গত ৩১ আগস্ট-২০২১ ইংরেজি তারিখে অপরাধবিজ্ঞানে মেধাতালিকায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবী এই কর্মকর্তা।

অধ্যয়ন শেষে কর্মস্থলে ফিরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসনও অপরাধ) হিসেবে রাঙামাটি জেলা পুলিশে পদায়ন হয় তার।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিলেন মাহমুদা

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদা বেগম বলেন, নিজের মেধা ও যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য সরকার আমাকে সুযোগ দিয়েছেন তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে নারীর যোগ্যতা প্রমাণ করা এখন অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে। নিজেকে ইউনিক করতে হলে সে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে।

তার এ অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছে নারী পুলিশের সংগঠন ‘বাংলাদেশ পুলিশ ওমেন নেটওয়ার্ক’ (বিপিডব্লিউএন)। গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর রাতে সংগঠনের নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানায় পুলিশের এই সংগঠনটি।

ফেসবুক ওয়ালে দেয়া পোস্টে বিপিডব্লিউএন লিখেন, Mahmuda Begum, Additional SP ( Admin & Crime), Rangamati completed Master of Criminology from University of Melbourne, Australia with the Scholarship of prestigious Prime Minister Fellowship 2019-2020 of The Government Republic of Bangladesh. She did the course work with the major of Advance research in criminal justice governance; The United Nations Review & Reform; Victim and criminal justice.

Heartiest congratulations to her on behalf of BPWN.

BPWN মাহমুদা বেগমের সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বিপিডব্লিউএন’র সভাপতি ঢাকা নগর পুলিশের এসবির (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) ডিআইজি আমেনা বেগম মুঠোফোনে বলেন, মাহমুদার এই অর্জনে আমরা গর্বিত। চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের মতো একটি ব্যস্ততম ইউনিটে থেকে সে যেভাবে তার মেধাকে প্রমাণ করেছে ঠিক সেভাবে বাংলাদেশ পুলিশের অন্য সদস্যদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে মাহমুদা বেগম অত্যন্ত মেধাসম্পন্ন একজন অফিসার। তাকে অনুসরণ করে পুলিশের অন্য নারীরাও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে সেই অনুপ্রেরণা জোগাতেই মাহমুদাকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ ওমেন নেটওয়ার্ক।

২৮তম বিসিএসের পুলিশের এই কর্মকর্তা ২০১০ সালে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ পুলিশে। পরে প্রশিক্ষণ শেষ শিক্ষানবীশ হিসেবে যোগদান করেন সিলেট জেলা পুলিশে। পরবতীর্তে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সিএমপিতে দায়িত্ব পালন করেছেন সহকারী কমিশনার সদর ও ট্রাফিক হিসেবে।

সিএমপিতে থাকাকালীন ২০১৩ সালে আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে সোয়াত প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নারী পুলিশ কর্মকর্তা তিনি। সিএমপিতে থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালে জাতিসংঘ মিশনে যান মাহমুদা। মিশনে থাকাকালীন একই বছর পদোন্নতি পেয়ে হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। সেখান থেকে ফিরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদেন চট্টগ্রাম রেঞ্জে।

সিএমপিতে দায়িত্বরত অবস্থায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে কাজ করার সুযোগ পান মাহমুদা বেগম। তৎকালীন ১১ বছর বয়সী একজন ভারতীয় শিশু কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে চলে আসে। সেই সময় শিশুটি শুধু নিজের দেশের নাম ভারত ছাড়া আর কোনো তথ্য দিতে পারেনি। মাহমুদা বেগম ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সহায়তায় অসহায় ভারতীয় শিশুটিকে ভারতে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রশংসিত হন। এছাড়াও নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে ফরমালিনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে এক সাহসী অবদান রাখেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ মাস্টার্স ও অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি থেকে অপরাধ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এ নারী ব্যক্তি জীবনে এক সন্তানের মা। স্বামী গণমাধ্যমকর্মী। কুমিল্লার তিতাসে পৈতৃক বাড়ি হলেও বাবার চাকরী সূত্রে জন্ম চট্টগ্রামে। বাবা এ এফ এম জাহেদুল ইসলাম সাবেক সরকারি কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটির অবস্থান ১ নম্বরে আর কিউএস গ্রাজুয়েট এমপ্লয়বিলিটি র‌্যাঙ্কিং অনুসারে ২০১৯ সালে বিশ্বে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে কিউএস ওয়ার্ল্ড বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী ৩৯ তম অবস্থানে ছিলো মেলবোর্ন। ২০১৭-২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী মেলবোর্নকে ৩২ তম স্থানের স্বীকৃতি দিয়েছিলো টাইমস হায়ার এডুকেশন।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত একটি পাবলিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় প্রাচীনতম এবং ভিক্টোরিয়ার সর্বপ্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। অস্ট্রেলিয়ার চারজন প্রধানমন্ত্রী এবং পাঁচজন গভর্নর-জেনারেল মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়েছেন। দশজন নোবেল বিজয়ী ছাত্র ও অনুষদ রয়েছে যা অন্য যেকোনও অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে সর্বাধিক।

মেলবোর্নে ১০টি পৃথক একাডেমিক ইউনিট রয়েছে এবং এতে ওয়াল্টার ও এলিজা হল ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল রিসার্চ, ফ্লোরি ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ, মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অফ ফলিত ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রি