গণতান্ত্রিক যাত্রায় পঞ্চাশ বছরেও বাংলাদেশ কোনো পর্যায়ে যায়নি

5

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে গণতান্ত্রিক যাত্রায় বাংলাদেশের অবস্থান একেবারেই স্বস্তিকর কোনো পর্যায়ে যাওয়া যায়নি। এটি সত্যিই হতাশার। আজ (বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গতকাল মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেছে। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের এই ঘাটতি রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে শুরু করে স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নেয়ার সুযোগ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে নাগরিকের আইনি ও সামাজিক অধিকারগুলো সুরক্ষার ক্ষেত্রে সর্বজনগ্রাহ্য জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং শুদ্ধাচার চর্চা সবকিছুর জন্যই প্রযোজ্য। তাই বাস্তবতাকে অস্বীকার না করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে টেকসই করতে এবং দেশের শাসনব্যবস্থাসহ সকল রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার পূর্ণ বিকাশে এখনই সর্বোচ্চ শুদ্ধাচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, অতিসম্প্রতি প্রকাশিত বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকে চার ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের ৭৬তম অবস্থান সাময়িক স্বস্তিদায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা আশাব্যঞ্জক নয়। কারণ ৫.৯৯ স্কোর নিয়ে আমরা এখনো ‘হাইব্রিড রিজিমে’ অবস্থান করছি। যাকে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলা যাবে না। দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটেনি বলেই শুধু বাংলাদেশের এই স্কোর নয়। বরং আমাদের শক্তিশালী বেশ কিছু আইনি কাঠামো থাকলেও সেগুলো পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং ‘আপাত ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তন’ হয় বলে প্রচার থাকলেও বাস্তবে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত ও আদর্শিক দূর্বলতায় সূচকে আমাদের এই অবস্থান। দেশে নির্বাচন কেন্দ্রিক এক দিনের গণতন্ত্রও বিলীন হতে চলেছে মর্মে সংসদে সম্প্রতি যে আলোচনা হয়েছে সেটিও দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার দূর্বলতাকে যথার্থভাবেই ফুটিয়ে তোলে। এটি কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, একটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী তা নির্ভর করে দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সংসদীয় কার্যাবলীর মধ্য দিয়ে। কিন্তু বিগত অনেকগুলো বছর ধরেই আমাদের নির্বাচন কমিশন কেমন যেন রুটিন দায়িত্বের অংশ হিসেবে শুধুমাত্র ভোটের আয়োজনেই সন্তুষ্ট। অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলো কিনা, তা নিয়ে তাদের ‘মাথাব্যথা’ নেই। গণতান্ত্রিক উৎকর্ষ অর্জনে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন কাঠামোর আমূল সংস্কার আশু কর্তব্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।