“পদ্মা সেতু এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য সম্ভাবনা” শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে গ্রীন ডেল্টা ক্যাপিটাল

186

বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রা ও পুঁজিবাজারের বিস্তারে পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য ভূমিকা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি
গত ২৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার,ঢাকার নিজস্ব-অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন দেশের অর্থনীতি এবং পুঁজিবাজারের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে; কারণ এই সেতুর উদ্বোধনের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশসমূহের মত, বাংলাদেশও অর্থনীতিতে তার শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

ধারনা করা হচ্ছে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই সেতুর বহুমুখী প্রভাবে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.২% থেকে ১.৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মার্চেন্ট ব্যাংক, গ্রীন ডেল্টা ক্যাপিটাল লিমিটেড, বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রা ও পুঁজিবাজারের বিস্তারে পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য ভূমিকা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি গত ২৬ জুলাই ২০২২-এ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সরকারী ও বেসরকারি অংশীদারদের অংশগ্রহণে “পদ্মা সেতু এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য সম্ভাবনা” শীর্ষক অনুষ্ঠান এবং আলোচনার আয়োজন করেছে।

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপদেষ্টা এবং গ্রীন ডেল্টা ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান – নাসিরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী তার স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সম্মানিত অতিথি হিসাবে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটি্স অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়ত-উল-ইসলাম। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব – শেখ মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের মূল বক্তা গ্রীন ডেল্টা ক্যাপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা – মোঃ রফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও পুঁজিবাজার একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। এক্ষেত্রে, অর্থ যোগানের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

অতঃপর, অনুষ্ঠানটির অন্যতম মিডিয়া পার্টনার একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক জনাব মোজাম্মেল হক-এর সঞ্চালনায় একটি প্যানেল পর্যালোচনা সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অর্থনীতিতে পদ্মা সেতুর অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি কিভাবে এই সেতু বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এই প্যানেল ডিসকাশন সেশনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক আমিন ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ. হুসেইন এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) এর সহ-সভাপতি সৈয়দ নাসিম মনজুর প্রমূখ সরকারি ও বেসরকারি খাতের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মতবিনিময় করেন।

পরবর্তীতে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, সম্মানিত অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দের বক্তব্যের শেষে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চার্টার্ড ইন্স্যুরার – ফারজানা চৌধুরী, গ্রীন ডেল্টা পরিবারের প্রধান হিসাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি ও বেসরকারি ব্যাক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনার পূর্বে তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সামষ্টিক ও সমন্বয়ক আলোচনা পুঁজিবাজারের সরকারি ও বেসরকারি পক্ষের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপনে এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহে ভূমিকা রাখতে পারে।