নীলফামারীতে পৌর মেয়রসহ চিকিৎসক দম্পতি কোয়ারেন্টাইনে

20

নীলফামারী পৌরসভার মেয়র ও চিকিৎসক দম্পতিসহ জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন মোট ৫২ জন। শুক্রবার জেলা সিভিল সার্জন ডা. রনজিৎ কুমার বর্মন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ভারত ভ্রমণের পর সম্প্রতি দেশে ফেরেন নীলফামারী পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. দীলিপ কুমার রায় ও তার স্ত্রী ডা. শেফালী রানী। বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছায় তারা নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে গিয়েছেন। তবে তারা সকলেই সুস্থ আছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কোভিট-১৯ প্রতিরোধ কন্ট্রোল রুম জানায়, গত ১ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ জেলায় বিদেশ ফেরা ৫২ জন ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এর মধ্যে জেলা সদরে ১৩ জন, ডোমারে ১৪ জন, ডিমলায় ১২ জন, জলঢাকায় ৫ জন, কিশোরগঞ্জে ৩ জন ও সৈয়দপুরে ৫ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে নীলফামারী পৌরসভার মেয়র ও সদর আধুনিক হাসপাতালে দুই শিশু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। ওই ৫২ জনের মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে ১৪ জন, ভারত থেকে ১৩ জন, মালোয়েশিয়া থেকে ৭ জন, দুবাই থেকে ৪ জন, সৌদি আরব থেকে ২ জন, ইতালি থেকে ২ জন, মালদ্বীপ থেকে ২ জন, মরিশাস (পূর্ব আফ্রিকা) থেকে ২ জন, কঙ্গো (মধ্য আফ্রিকা) থেকে ২ জন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ জন, কাতার থেকে ১ জন, ব্রুনাই ১ ও বাহরাইন (মধ্য প্রাচর) থেকে ১ জন এসেছেন। বর্তমানে তারা সকলে সুস্থ আছেন।

মুঠোফোনে নীলফামারী পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, আমি ভারতের যে এলাকায় গিয়েছিলাম সেখানে করোনা ভাইরাসের কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তারপরও ভারত থেকে ফেরার পর বাড়িতে ছিলাম। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানে করোনা আক্রান্ত নয়, তারপরও অনেকে আতঙ্কিত হন। এ বিষয়ে সবাইকে জানতে হবে এবং এর সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. রনজিৎ কুমার বর্মন বলেন, গত ১ ডিসেম্বর থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ৮৯ জন প্রবাসী এসেছেন। ইতোমধ্যে ৩৭ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পূর্ণ হয়েছে এবং তারা সুস্থ আছেন।

তিনি জানান, নোবেল করোনা মোকাবেলায় ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের ১৪টি কক্ষে ৫৮টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় আমরা সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছি।