hasina

অস্ট্রেলিয়ায় সহায়তার জন্য বেকারদের দীর্ঘ সারি

10

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ‘মহামন্দা’র মতো অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। তার এ বক্তব্যের পর দেশটির বেকারত্ব সুবিধা প্রদানকারী কার্যালয়গুলোয় ভিড় করতে শুরু করেছেন কর্মহীন অস্ট্রেলীয়রা। খবর এএফপি।

টানা ২৯ বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড অর্জন করেছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া মহামারীর কারণে সরকারের ১০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার (১৮ হাজার ৯০০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার) ত্রাণ কর্মসূচি সত্ত্বেও মন্দা ঝুঁকিতে রয়েছে দেশটির অর্থনীতি।

করোনা মোকাবেলায় গতকাল মধ্যরাত থেকে পাব, ক্যাসিনো, গির্জা ও ব্যায়ামাগারগুলো বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বেকারত্ব সুবিধা প্রদান কার্যালয়গুলোয় দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় এমন দৃশ্য দেখা যায়নি। ইনকাম সাপোর্ট পেমেন্টের জন্য চাকরি সন্ধানকারীদের নিবন্ধনের চাপে এরই মধ্যে একটি সরকারি সেবার অনলাইন পোর্টাল ধসে পড়েছে। ভাইরাস সংকট মোকাবেলায় জনগণকে সহায়তার জন্য বেকারভাতা সুবিধা সাময়িকভাবে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৩১৬ ডলার করেছে অস্ট্রেলিয়া।

এদিকে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানান, আমরা একটি অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি রয়েছি, যা গত শতকের মহামন্দার পর আর দেখা যায়নি। এ সময় তিনি ১৯২০ দশকের শেষ থেকে ১৯৩০ দশক পর্যন্ত বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের উল্লেখ করেছেন, যা ‘মহামন্দা’ হিসেবে পরিচিত।

পার্লামেন্টে মরিসন বলেন, আমরা যেমনটা ধারণা করেছিলাম, জনগণ তেমনি সেন্ট্রেলিংক কার্যালয়গুলোয় ভিড় করছে এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও এ মাত্রা অকল্পনীয় ছিল। তারা তাদের কর্মসংস্থান, অর্থ হারিয়েছে। আমরা জানি, আরো অনেকে এ পথে হাঁটবে। কয়েক প্রজন্মের মধ্যে এটাই অস্ট্রেলিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক ধাক্কা।

সেন্ট্রেলিংক নামে পরিচিত সমাজকল্যাণ কার্যালয়গুলোর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া জনগণকে গুরুতর প্রয়োজন ছাড়া এসব স্থানে স্বশরীরে হাজির না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ওয়েবসাইট ধসে পড়ার পর সমাজ সেবামন্ত্রী স্টুয়ার্ট রবার্ট জানান, হ্যাকারদের ডিডিওএস হামলা প্রচেষ্টারও চেয়ে ব্যাপক মাত্রায় ক্ষতি হয়েছে।

ভাইরাসের বিস্তার রোধে শিগগিরই অপ্রয়োজনীয় সেবাগুলো বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তার আগে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু আন্তঃরাজ্য সীমান্ত কার্যকরভাবে বন্ধ ও সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে জানান, দেশজুড়ে এসব পদক্ষেপ ছয় মাস পর্যন্ত বহাল রাখা হতে পারে। এরই মধ্যে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আরো কঠোর পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।