করোনায় কিছু লোক মরলেও অর্থনীতি সচল রাখতে চান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

6

করোনাভাইসের সংক্রমণে প্রায় পুরো বিশ্ব। সংকট মোকাবেলায় রাষ্ট্র প্রধানরা দেশগুলোতে নাগরিকদের অবাধ চলাচলে নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করছেন। যাতে করে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে যায়। লকডাউন ঘোষণার পাশাপাশি বন্ধ হচ্ছে কল-কারখানাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর ঠিক উল্টো পথে হাঁটছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। কারণ তিনি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে নারাজ।

গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি দুঃখিত, করোনাভাইরাসের কারণে কিছু মানুষ মারা যাবে, কিন্তু আমি এর কারণে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারবো না।

বলসোনারো বলেন, সাও পাওলো হলো ব্রাজিলের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। সেখানকার গভর্নর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নিয়ে রাজনীতি করছেন। আমার আদেশ অমান্য করে সেখানে লকডাউন ঘোষণা করেছেন। এতে ক্ষতি হচ্ছে ব্রাজিলের।

‘বাড়িতেই থাকুন’, করোনা সংক্রমণ রুখতে নাগরিকদের কড়া নির্দেশ প্রশাসনের ≣ দুবাইয়ে হাটহাজারী প্রবাসীদের মিলনমেলা ≣ ইউএইকে বন্দর ও জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এনডিটিভি বলছে, সাও পাওলোতে লকডাউন ঘোষণা করা হলেও প্রেসিডেন্ট সমর্থিতরা তা মানছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, তারা রাস্তায় জোরে হর্ন বাজিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন।

খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অমান্য করে দেশটির ২৬ গভর্নর তাদের নিজ নিজ এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করেছেন।

শুক্রবার সাও পাওলোর গভর্নর জোওয়াও দরিয়া বলেন, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দেশে করোনাভাইরাস নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন। তিনি #ব্রাজিলক্যাননটস্টপ নামক স্লোগান প্রচার করছেন। সাও পাওলোতে তার সমর্থকরা গণজমায়েত করে রাস্তায় সে স্লোগান দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে জানা যায়, ব্রাজিলে করোনাভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয়েছে সাও পাওলোর মানুষ। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২২৩ জন। মারা গেছে ৬৮ জন। দেশটিতে সর্বমোট আক্রান্ত পাওয়া গেছে তিন হাজার ৪১৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ৯২ জনের।বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন ২৭ হাজার ৩৬০জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৯৭ হাজার জন। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার মানুষ। এনডিটিভি।

এর আগেও করেনা ভাইরাসকে ‘ফ্যান্টাসি’ বলে মশকরা করেছিলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো।