hasina

বিশ্ববাজারে কমে অর্ধেক (এলপিজি)গ্যাসের দাম

10

করোনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এলপিজি তৈরি হয় প্রপেন ও বিউটেন নামের গ্যাসের মিশ্রণে। এই গ্যাস দুটির দাম এক মাসে কমে অর্ধেক হয়ে গেছে।

এটি দেশের মানুষের জন্য সুখবর জদিও আমাদের দেশে এর সুবিধা কবে পাবে সাধারণ মানুষ বলা মুশকিল। কারন দাম বাড়লে রাতারাতি মূল্য বৃদ্ধি হয়,একই ভাবে ঠিক কমানো হয় না।
তবে যেহেতু প্রচুর মানুষ এখন এলপিজি ব্যবহার করে রান্না করে। আবার খাবার দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনেও এলপিজি ব্যবহার করা হয়। অবশ্য দেশে দর কমার বিষয়টি নতুন দামে গ্যাস আমদানি ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। আবার এই পড়তি দর কতটা স্থায়ী হয়, সেটাও বিবেচ্য।

এ অঞ্চলে এলপিজির দাম নির্ভর করে সৌদি আরামকো নামে পরিচিত সৌদি অ্যারাবিয়ান অয়েল কোম্পানির নির্ধারিত দামের ওপর। গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরামকো প্রতি টন প্রপেনের দাম নির্ধারণ করেছে ২৩০ মার্কিন ডলার, যা আগের মাসে ৪৩০ ডলার ছিল। অন্যদিকে বিউটেনের দাম ঘোষণা করা হয়েছে ২৪০ ডলার, যা আগের মাসে ছিল ৪৮০ ডলার।

বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো প্রায় ৩০ শতাংশ প্রপেন ও ৭০ শতাংশ বিউটেনের মিশ্রণে এলপিজি বাজারজাত করে। দাম এভাবে কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে রাশিয়া ও সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব এবং করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিক মন্দাকে দায়ী করা হচ্ছে।

অবশ্য গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বাড়ছিল। আরামকোর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসের জন্য ঘোষিত প্রপেনের দাম ছিল টনপ্রতি ৫৬৫ ডলার, যা গত সেপ্টেম্বরে ছিল ৩৫০ ডলার। এর মানে হলো জানুয়ারি পর্যন্ত আগের পাঁচ মাসে প্রপেনের দাম ৬১ শতাংশ বেড়েছে। জানুয়ারির পর থেকে বাজার আবার কিছুটা পড়েছে। বড় পতন হলো এপ্রিলের দামের ক্ষেত্রে।

বিশ্ববাজার ধারাবাহিক বাড়ার পর দেশে কোম্পানিগুলো জানুয়ারি মাসে ১২ কেজির এক সিলিন্ডার এলপিজির দাম এক দফায় ২০০ টাকার মতো বাড়ায়।

কোম্পানিগুলো সাধারণত আমদানিমূল্যের কয়েক মাসে গড় ধরে দেশের বাজারমূল্য ঠিক করে, যাতে বিশ্ববাজারে হঠাৎ ওঠানামার ব্যাপক প্রভাব দেশের বাজারে না পড়ে।

বিশ্ববাজারে এই পড়তি দাম যদি টেকে এবং দেশে সরবরাহ করা যায়, তাহলে অবশ্যই ক্রেতারা সুফল পাবে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের হিসাবে, দেশে এলপিজির চাহিদা ছিল ৮ লাখ ২৫ হাজার টন। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দেশে এলপিজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৮ লাখ।