করোনায় চলে গেলেন যেসব শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত মুখগুলো।

4

করোনার মানুষের মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সারা বিশ্বে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। রেহাই পাননি শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত মুখগুলোও। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯ শোবিজ তারকা প্রাণ হারিয়েছে। সংক্রমিত অবস্থায় আছে শতাধিক পর্দার মানুষ। এ তালিকায় সর্বশেষ যোগ হয়েছেন ‘এইন্ট নো সানশাইন’ ও ‘লিন অন মি’ গানের গায়ক বিল উইথার্স। উইথার্সের বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনেক দিন ধরেই হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন উইথার্স। এমনকি ১৯৮৫ সালের পর আর কোনো গানও প্রকাশ করেননি এই শিল্পী। তার গাওয়া ‘লিন অন মি’ গানটি এখন ভেসে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই গান শেয়ার করে তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ভক্তরা।
তার এক দিন আগেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী জুলি বেনেট। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
মার্কিন গণমাধ্যমের কল্যাণে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অভিনেত্রী জুলি। কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এরপর শুক্রবার তার মৃতু্যর খবর আসে।

মঙ্গলবার সূর্যের আলো উঠার আগেই না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান স্টার ওয়ার্স খ্যাত অভিনেতা অ্যানড্রিউ জ্যাক। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। সিনেমার ভাষা প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র ও পিয়ার্স ব্রসনানের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে। জানা গেছে, টেমসের একটি পুরনো হাউসবোটে তিনি একা বাস করতেন।
এমনকি কান্ট্রি মিউজিকের কিংবদন্তি সংগীততারকা কেনি রজার্স করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

এখানেই শেষ নয়, মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কিংবদন্তি ব্রিটিশ কমেডিয়ান ইডি লার্জ। লার্জের মৃতু্যর বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে রায়ান ম্যাকগিনিস। তিনি লিখেন, ‘তার বাবা আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগছিলেন। দুর্ভাগ্যক্রমে হাসপাতালে থাকাকালীন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

গত রোববার সকালে আরও একটি খারাপ সংবাদ দেয় হলিউড রিপোর্ট। সেটা হলো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ‘আই লাভ রক অ্যান্ড রোল’ গানের লেখক ও গায়ক অ্যালান মেরিলের মৃতু্যর খবর। মেয়ে লরা মেরিলের বরাত দিয়ে হলিউড রিপোর্ট সংবাদটি প্রকাশ করে। অ্যালান মেরিল ছিলেন একাধারে গায়ক, গীতিকার, গিটারিস্ট, অভিনেতা ও মডেল। আবার তিনি ব্রিটিশ ব্যান্ডদল ‘দ্য অ্যারোস’-এর গীতিকার এবং ভোকালও ছিলেন।

করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে শুরুর দিকেই হেরে যান গ্র্যামি পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়ক জো ডিফি ও কমেডিয়ান কেন শিমুরা। গায়ক জো ডিফির বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে জো ডিফির গান থাকত চার্টবাস্টারের প্রথম দিকে। গ্র্যামিসহ মিউজিক জগতের একাধিক পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন তিনি।
‘কাইশ্যা’ নামে পরিচিত জাপানের কমেডিয়ান কেন শিমুরাও মারা গেছেন একই কারণে। জ্বর ও নিউমোনিয়ার কারণে ৭০ বছর বয়সি কেন শিমুরাকে ২০ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবশেষে তিনিও চলে যান না-ফেরার দেশে।