hasina

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে নতিস্বীকার ভারতের

4

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রে ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন সরবরাহ না করলে প্রতিশোধ নেয়া হবে বলে ভারতকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ওষুধটি রফতানির ওপর সম্প্রতি ভারত যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল তা আজ প্রত্যাহার করে নিয়েছে মোদি সরকার।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের জন্য কার্যকরী হিসেবে সম্প্রতি আলোচনায় আসা ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে ভারত। তবে প্রতিবেশী দেশ ছাড়া সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোই শুধু ভারত থেকে এই ওষুধ আমদানি করতে পারবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছেন, ‘মহামারির এই সময়ে মানবিক দিক বিবেচনা করে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ভারতের ওপর নির্ভরশীল এমন সব প্রতিবেশী দেশ এবং কিছু দেশ যারা এই মহামারিতে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত, সেসব দেশে আমরা প্যারাসিটামল ও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন সরবরাহ করবো।’
মোদী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে সব দেশে করোনা ভয়াবহ আকার নিয়েছে, সেখানে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রপ্তানি করা যাবে। এমনিতে ম্যালেরিয়া হলে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেওয়া হয়। কিন্তু এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকী, করোনার প্রতিরোধক হিসাবেও এই ওষুধব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যামেরিকাতে গবেষকরা দেখেছেন, করোনার চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সাহায্য করছে।
কিন্তু দেশে যাতে এই ওষুধের অভাব না হয়, সে জন্য মোদী সরকার হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সহ মোট ২৬টি ওষুধ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই সঙ্গে মাস্ক, স্যানিটাইজার এবং ভেন্টিলেটার রপ্তানির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আছে। ঘটনা হলো, জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদক ও রপ্তানিকারী।
ভারতে চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মীদেরও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের হুমকির পর ভারত প্রথমে ২৪টি ওষুধের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কিন্তু হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও প্যারাসিটামলের ওপর থেকে তোলা হয়নি। মঙ্গলবার সকালে জানিয়ে দেওয়া হয়, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা থাকবে। যেসব দেশে এই ওষুধ করোনার জন্য লাগবে, তাদের দেওয়া হবে।