hasina

চাপে ই-কমার্স, সময় মতো অর্ডার ডেলিভারি দিতে পারছে না

16

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি চলছে সারাদেশে। ঘর থেকে বাইবে বের হওয়া এখন অনেক বড় ঝুঁকি। সে কারনে সবকিছুই এক প্রকার অচল। ঘরবন্দি গোটা দেশের মানুষ। করোনার সংক্রমণ এড়াতে দোকানপাট ও বাজারের জন্য বেঁধে দেয়া হয়েছে নির্দিষ্ট সময়। ফলে ঘরবন্দি সচেতন মানুষ সংক্রমণ এড়িয়ে চলতে বাজারের পরিবর্তে ই-কমার্সকেই বিকল্প হিসেবে বেঁছে নিয়েছে। ঘরে বসেই অনলাইনে অর্ডার করে পেয়ে যাচ্ছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর অধিবাসীদের একটি বড় অংশই এখন ঝুঁকছেন অনলাইন বাজারে। ফলে এই মাধ্যমে গত কয়েকদিনে কেনাকাটা বেড়ে গেছে ৭গুণ। হঠাৎ করেই পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডেলিভারি দিতে হিমশিম খাচ্ছে কোম্পানিগুলো। অধিক সংখ্যক অর্ডার এবং স্বল্প সংখ্যক ডেলিভারি কর্মী থাকায় সময়মতো গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছাতে পারছেনা তারা। এজন্য অর্ডারের তিন থেকে চার দিন পর পন্য হাতে পাচ্ছেন ক্রেতারা। এছাড়া একই সাথে বেশি সংখ্যক মানুষ ওয়েবসাইটিতে ভিজিট করার কারণে মাঝে মাঝে অনেকেই সাইটে প্রবেশও করতে পারছেন না।

ক্রেতাদের অভিযোগ, অনলাইন মার্কেটে পণ্য অর্ডার করার পর দুই-তিন দিন চলে গেলেও ডেলিভারি পাচ্ছি না। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করলেও পাওয়া যাচ্ছে না কোন সদুত্তর। চালডালডটকমে মুদি পণ্যের অর্ডার করার পর নির্দিষ্ট সময়ে অর্ডার না পাওয়া তারেক রায়হান বলেন, তাদের ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে ঢাকা শহরের যেকোন স্থানে এক ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেয়া হবে। কিন্তু দুই দিন (গতকাল পর্যন্ত) অতিক্রম হলেও এখনো পণ্য হাতে পাননি। তাদের প্রতিষ্ঠানে ফোন দিলে কেউ রিসিভও করে না। ফলে খাদ্যদ্রব্য শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে আছেন তিনি। চালডালের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেছেন আরও অনেকে।

মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ই-কমার্সে পোষাক-পরিচ্ছদ, প্রসাধনী পণ্যের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে করোনার প্রকোপ ও লকডাউন শুরু হওয়ার পর চাহিদার শীর্ষে ওঠে এসেছে খাদ্যদ্রব্য ও মুদি পণ্য। এ ক্ষেত্রে সবেচেয়ে চাপে আছে বাংলাদেশি অনলাইন মুদি এবং খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘চালডালডটকম’। চালডালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জিয়া আশরাফ বলেন, করোনাভাইরাসে প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই আমাদের অর্ডার বাড়তে থাকে। আগে যেখানে আমাদের প্রতিদিন অর্ডার আসতো তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার এখন সেটি ১৮ থেকে ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের ডেলিভারি কর্মী সংখ্যা কম। প্রতিদিন এতো সংখ্যক ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য যেগুলো বাকি থাকছে তা পরবর্তী দিনে দেয়া হচ্ছে। এতে সময় কিছুটা বেশি লাগছে।