করোনায় পাকিস্তানের ক্রিকেটারের মৃত্যু

7

বিশ্ব জুড়ে ক্রমশ বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও থাবা বসিয়েছে এই মারণ ভাইরাস। কোভিড ১৯-এর কারণে বিশ্ব জুড়ে বন্ধ সমস্ত ধরনের স্পোর্টিং ইভেন্ট। ফুটবল বিশ্বে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা ভাইরাস। এবার ২২ গজেও করোনার বলি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার জাফর সরফরাজের। বিশ্বের একাধিক দেশের মতো পাকিস্তানেও বেড়ে চলেছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ৫৭০০ বেশি মানুষের শরীরে মিলেছে করোনার জীবাণু। মৃত্যু একশো ছুঁইছুঁই। জাফর সরফরাজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে।

গত তিনদিন ধরে পেশোয়ারের একটি বেসরকারি হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে ছিলেন বছর পঞ্চাশের জফর সরফরাজ। প্রথমে করোনার উপসর্গ নিয়ে ভরতি হন তিনি। লালারসের নমুনা পরীক্ষার পর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারপর তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু মারণ ভাইরাসের কোপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেন না প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার। এই প্রথম পাক মুলুকে কোনও পেশাদার ক্রিকেটার হার মানলেন করোনার কাছে। এর আগে করোনায় বিশ্বের কোনও ক্রিকেটারের মৃত্যুর খবর সামনে আসেনি।

১৯৮৮ সালে ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয় জাফরের। পেশোয়ারের হয়ে ১৫টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ম্যাচে ৬১৬ রান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৯৯৪ সালে বাইশ গজকে বিদায় জানানোর আগে ছটি ওয়ানডে ম্যাচে ৯৬ রান করেছিলেন তিনি। শুধু ক্রিকেটার হিসেবেই নয়, কোচ হিসেবেও পাক ক্রিকেটে অবদান রয়েছে তাঁর। অনূর্ধ্ব-১৯ এবং সিনিয়র দলের কোচিং করিয়েছেন তিনি। প্রথম শ্রেণির প্রাক্তন ক্রিকেটারের পাশাপাশি তাঁর আরও একটি পরিচয় আছে। তা হল তিনি পাকিস্তান জাতীয় দলের প্রাক্তন তারকা আখতার সরফরাজের দাদা। মাত্র দশমাস আগেই ক্যানসারে প্রাণ হারিয়েছিলেন আখতার। এবার দাদার মৃত্যু হল করোনা মহামারিতে। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া পাক ক্রিকেট মহলে।