দেশের ২২৭৪টি গার্মেন্টের মধ্যে বেতন দিয়েছে ৭৬১টি

16

প্রায় প্রতিদিনই চলছে বেতনের জন্য শ্রমিকদের আন্দোলন। এখন ও বেশির ভাগ শ্রমিক তাদের প্রাপ্য বেতন পায় নাই।
দেশের ২২৭৪টি তৈরি পোশাক কারখানার মধ্যে ৭৬১টি তাদের শ্রমিক-কর্মচারীকে গেল মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। ঢাকার ৩৭২টির মধ্যে বেতন দিয়েছে ১০১টি।

রোববার বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজিএমইএ জানায়, ঢাকা ছাড়াও গাজীপুরের ৮১৮টি কারখানার মধ্যে বেতন দিয়েছে ৩০৫টি, সাভারের আশুলিয়ার ৪৯১টির মধ্যে ১৮৭টি, নারায়ণগঞ্জের ২৬৯টির মধ্যে ৭১টি এবং চট্টগ্রামের ৩২৪টির মধ্যে ৯৭টি কারখানা বেতন দিয়েছে।

এর আগে পোশাক মালিকদের বড় দুটি সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) যৌথ ঘোষণায় বলেছে, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শ্রমিক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা নিয়ে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাই যেসব পোশাক কারখানার মালিক এখনো মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেননি, তাদের যেকোনো পরিস্থিতিতে বেতন পরিশোধ করতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হচ্ছে, এ সংকটকালে আপনারা শ্রমিকদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে সহজ শর্তে সহযোগিতা করুন। অনেক স্থানে লকডাউন থাকলেও শ্রমিকদের বেতনের টাকা দেওয়ার জন্য ২-৩ দিন কয়েক ঘণ্টা ব্যাংক খোলা রেখে বেতনের টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

পোশাক কারখানার মালিকদের উদ্দেশে তারা বলেন, যারা এখনো মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেননি, যেকোনো পরিস্থিতিতে পরিশোধ করার ব্যবস্থা করুন। একসঙ্গে সমবেত না করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রম্নপে ভাগ করে এবং সময় ভাগ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেতন পরিশোধ করুন।

বিজিএমইএ’র তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে পোশাক কারখানা রয়েছে ৪৫৬০টি। যেখানে কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। দেশের মোট রপ্তানিতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে হোমটেক্স, টেরিটাওয়েলসহ এ খাতের অন্যান্য রপ্তানির উপখাত হিসাব করলে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। এক দশক ধরে দেশের জিডিপি ৬ শতাংশের ওপরে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে এ পোশাক খাত। তাই তৈরি পোশাকের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পুরো অর্থনীতিতে।