hasina

করোনার ভিতরে ভোট দক্ষিণ কোরিয়ায়

5

মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অনেক দেশ নির্বাচন স্থগিত করলেও সে পথে হাঁটেনি দক্ষিণ কোরিয়া। কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সতর্কতা বজায় রেখেই বুধবার দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। সংবাদসূত্র : বিবিসি

এবারের নির্বাচনে ৩৫টি দল ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ৩০০ আসনের জন্য লড়লেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ক্ষমতাসীন মিনিজো পার্টি ও প্রধান বিরোধী দল রক্ষণশীল ইউনাইটের ফিউচার পার্টির মধ্যে।

২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে কোন দলের জনপ্রিয়তা কেমন, এ ভোটের মাধ্যমেই তা যাচাই করা যাবে। নির্বাচনে দক্ষিণ কোরিয়ার চাপে পড়া অর্থনীতি ও বর্তমান প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের দুর্নীতির বিষয়টিই বেশি প্রাধান্য পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এসবের পাশাপাশি মহামারির মধ্যে ভোট দিতে আসা ব্যক্তিদের নতুন কিছু নির্দেশনাও মাথায় রাখতে হয়েছে।

দেশটির কর্তৃপক্ষ এবার ভোটারদের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে। বুথের বাইরে লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের দূরত্বও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে; একজনের সঙ্গে অপরজনের দূরত্ব রাখা হয় নূন্যতম এক মিটার। কেন্দ্রে আসা ভোটারদের শরীরের তাপমাত্রাও মাপে কর্তৃপক্ষ; এরপর হাত জীবাণুমুক্ত করার পর দেওয়া হয় পস্নাস্টিক গস্নাভস। এতসব সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পরই মিলে ভোটের স্স্নিপ, পাওয়া যায় বুথে ঢুকে ব্যালটে রায় জানানোর অনুমতি।

নির্বাচনের আগে অবশ্য অনেকেই মহামারির মধ্যে ভোটগ্রহণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন; দক্ষিণ কোরিয়ানরা শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন। দেশটিতে গত শুক্র ও শনিবার ছিল আগাম ভোটের সুযোগ। ডাকের মাধ্যমে অথবা নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে সেই আগাম ভোটে অংশ নিয়েছেন রেকর্ড এক কোটি ১০ লাখেরও বেশি ভোটার। এ সংখ্যা দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর ২৬ শতাংশ।

বুধবারও কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশনা মেনেই ভোটাররা বিভিন্ন বুথে ভিড় জমিয়েছেন; পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে নিজের অবস্থান জানাতে ধৈর্য ধরে অপেক্ষাও করছেন। ‘আমি ধারণা করেছিলাম যেহেতু লোকজন আসবে না, তাই হয়তো ভোট স্থগিত হবে। কিন্তু এখন আমি ও আমার মতো আরও অনেকেই এখানে। কোনোরকম দুশ্চিন্তাও হচ্ছে না’, বলেছেন ভোটকেন্দ্রে আসা এক নারী।

এবারই প্রথম দেশটির ১৮ বছর বয়সিরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সিউলের রেলস্টেশনে এরকমই একঝাঁক নতুন ভোটারের মধ্যে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস, সংক্রমণের ভয় তাদের আটকে রাখতে পারেনি। ‘ভোট দেওয়া আমাদের অধিকার,’ বলেছেন ভোটের লাইনে থাকা এক তরুণ। ‘ভোট এমন একটা বিষয়, যাতে আমাদের অংশ নিতেই হবে’, বলেন আরেক তরুণী। তিনি আরও বলেন, পস্নাস্টিকের গস্নাভসে খানিকটা ‘অস্বস্তি’ হলেও নিরাপদ বোধ হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়া তার ইতিহাসে কখনোই কোনো নির্বাচন স্থগিত করেনি। ১৯৫২ সালের কোরীয় যুদ্ধের সময়ও দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট খানিকটা ভিন্ন; সংক্রমণের ঝুঁকি এড়িয়ে কী করে নির্বাচন করা যাবে, কর্তৃপক্ষের জন্য সেটিই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

এছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন ভোটারদের ডাকের মাধ্যমে ব্যালট পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়। মৃদু উপসর্গ থাকা আক্রান্তদের চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরেও পৃথক বুথ রাখা হয়েছে।