বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে মার্কিন সাহায্য বন্ধ

10

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আর্থিক অনুদান দেয়া বন্ধ করে দিল আমেরিকা। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আমেরিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (হু) আর কোনও অনুদান দেবে না। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক প্রেস কনফারেন্সে জানিয়েছেন, হু-কে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দিতে তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, জার্মাানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিল গেটস।

মঙ্গলবার পর্যন্ত আমেরিকায় কোভিড-১৯-এর সংক্রমণে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। ট্রাম্প প্রথমদিকে এই মহামারীকে তেমন একটা আমল দেননি বলে আজ আমেরিকা এই রোগের এপিসেন্টার বলে তিনি নিজেও সমালোচনার মুখে। তবে দায় এড়াতে ট্রাম্প প্রথম থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনকে দোষারোপ করে আসছেন। তিনি করোনা ভাইরাসকে চাইনিজ ভাইরাস বলেও একাধিকবার উল্লেখ করেছেন বিভিন্ন প্রেস কনফারেন্সে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, করোনা ভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় হু পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায়িত্ব হু-কে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। চীনের উহান শহর থেকে করোনা মহামারী শুরু হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই প্রকাশ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমালোচনা শুরু করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, হু পুরো বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে ও চীনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, চীনের প্রতি হু পক্ষপাতম‚লক আচরণ করে। জবাবে এ সময়ে রাজনীতি না করে সবাইকে একত্রিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো কথায় কান না দিয়ে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুদান বন্ধ করে দিলেন।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশ ও আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাস বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এই সময়ে অর্থ সাহায্য বন্ধ করাটা উচিত হয়নি। এটা সভ্যতার এই লড়াইয়ের সহয়াক হবে না। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাশ গতকাল টুইট বার্তায় বলেন, ‘আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে শক্তিশালী করা অন্যতম সেরা বিনিয়োগ। যেমন এর ফলে তারা করোনার প্রতিষেধক তৈরি ও বন্টন করতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দোষারোপ করে কোন লাভ হবে না। ভাইরাস কোনও সীমানা মানে না।’ মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস গতকাল টুইট বার্তায় বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলার বিষয়ে পর্যালোচনা মুলতুবি রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে তহবিল বন্ধ করতে প্রেসিডেন্টর নেয়া সিদ্ধান্তটি ‘যতটা ধারণা করা যাচ্ছে, ততটাই বিপজ্জনক।’ তিনি বলেন, ‘তাদের (হু) কাজ হচ্ছে কোভিড-১৯ এর প্রসারকে কমিয়ে রাখা এবং যদি এই কাজ বন্ধ করে দেয়া হয় তবে অন্য কোনও সংস্থা তাদের বিকল্প হতে পারবে না। বিশ্বের এখন আগের চেয়ে বেশি হু’কে প্রয়োজন।’

এদিকে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্চে ৬৭ কোটি ৫৯০ লাখ ডলার সহায়তার আবেদন জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা কমপক্ষে ১০০ কোটি ডলারের নতুন আবেদন করার পরিকল্পনা করছে। আমেরিকাই হু-কে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সাহায্য করে এসেছে। গত বছর আমেরিকা হু-কে ৪০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছিল, যা হু-এর বাজেটের ১৫ শতাংশ মতো। চীন দিয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ ছাড়া তারা ভলান্টারি ফান্ডিং দিয়েছে প্রায় এক কোটি ডলার। সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স, সিএনএন।