২০ কোটি ইউরোর ঋণ তহবিল গঠন করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

12

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২০ কোটি ইউরো সমমূল্যের নতুন একটি তহবিল গঠন করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। ইউরোতে প্রথমবারের মতো কোনো তহবিল গঠন করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে তা ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়। এখান থেকে ঋণ নিয়ে পরিবেশবান্ধব শিল্প খাতে ব্যবহারিত কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করা যাবে।

রপ্তানিমুখী চামড়া ও বস্ত্র খাতের কারখানা পরিবেশবান্ধব শিল্পে রূপান্তরের জন্য বর্তমানে ২০ কোটি ডলারের একটি তহবিল রয়েছে, যা গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড বা জিটিএফ নামে অবহিত। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে গঠিত এ তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে সবুজ কারখানা রূপান্তরের জন্য শুধুমাত্র মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করা যায়। ঋণ নিতে হয় ডলারে। তবে নতুন এ তহবিল থেকে ইউরোতে ঋণ নিয়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি শিল্পে ব্যবহারিত কাঁচামাল আমদানি করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, পরিবেশ বান্ধব শিল্প কারখানার জন্য গঠিত এ তহবিল ব্যাংকগুলো ইউরো ইন্টার ব্যাংক অফার রেট (ইউরিবোর) + ১ শতাংশ সুদে অর্থায়ন নিতে পারবে।

যদি ইউরিবোর ঋণাত্মক হয় সে ক্ষেত্রে সুদহার হবে ১ শতাংশ। এর সঙ্গে ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে আরো ১ থেকে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ সুদ যোগ করে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। বর্তমানে ইউরিবোর ঋণাত্মক রয়েছে। ফলে বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদহার হবে তিন শতাংশ। আর ব্যাংক অর্থ পাবে ১ শতাংশ সুদে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বিদেশ থেকে শিল্পে ব্যবহারিত কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আনতে ৬ শতাংশের মতো সুদ ব্যয় হয়। নতুন এ তহবিলের ফলে গ্রাহকের সুদ ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে ইউরোতে যারা বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেন তাদের ডলার থেকে ইউরোতে রূপান্তর করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে যে লোকসন হয় সেটিও আর হবে না।

ডলারে ঋণ দেয়ার জন্য বর্তমানে গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিল (জিটিএফ) ছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সম্প্রতি এ তহবিলের আকার বাড়িয়ে ৫০০ কোটি ডলার করা হয়েছে। আর সুদহার নামিয়ে আনা হয়েছে ২ শতাংশে। এখান থেকে ঋণ নিয়ে রপ্তানিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে পারেন উদ্যোক্তারা।