অর্থনীতিতে ধস ঠেকাতে লকডাউন তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের

7

যুক্তরাষ্ট্র দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস ঠেকাতে করোনা মহামারীর মধ্যেই লকডাউন তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। আক্রান্তের সংখ্যা কম এমন অঙ্গরাজ্যগুলিতে আংশিক লকডাউন শিথিল করে অর্থনীতি পুনরদ্ধারের প্রচেষ্টা শুরু করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কোভিড-১৯ নিয়ে চলতি সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, আমরা সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায় পেরিয়ে এসেছি। আশা করা যায়, এটি ধরে রাখা সম্ভব হবে এবং ধীরে ধীরে উন্নতি হবে।’

আগামী ১ মে লকডাউন তোলার সম্ভাব্য দিন ঠিক করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ মাসেই কয়েকটি অঙ্গরাজ্য আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। হোয়াইট হাউজের প্রাত্যহিক করোনা বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, গভর্নরদের সঙ্গে কথা বলে নতুন গাইডলাইন চ‚ড়ান্ত করা হবে। দৃঢ় কণ্ঠে আশাবাদ ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সবাই ঘুরে দাঁড়াবো। আমরা আমাদের দেশকে আবার আগের অবস্থায় ফেরাতে চাই।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো জানান যে, করোনাভাইরাস দমনে তার কড়া পদক্ষেপগুলি কাজে দিয়েছে। এতে করোনা মহামারীর চরম পর্যায় পেরিয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আগেভাগে লকডাউন তোলা বিপজ্জনক হবে কিনা সেই প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘বন্ধ রেখেও তো মৃত্যু ঘটছে।’ একই সঙ্গে তার যুক্তি, অর্থনৈতিক স্থবিরতায় আমেরিকানদের মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে। লাখ লাখ লোক চাকরি হারিয়েছে এবং বেকারত্বের হার বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। বিশ^জৃুড়ে করোনা সংক্রমণের জন্য উল্লেখযোগ্য ভাবে চিনকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ তোলা হয় যে, ল্যাবে তৈরি করে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে দিয়েছে চীন। ট্রাম্প সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেন, উহানের ল্যাবরেটরিতে ভাইরাস তৈরির যে অসমর্থিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখছে আমেরিকা।

এদিকে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত রোডম্যাপের একটি খসড়া মার্কিন গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের সূত্রে প্রাপ্ত রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিচালনা সংস্থার লিখিত ‘আমেরিকা পুনরায় চালু করার ফ্রেমওয়ার্ক’ নথিতে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন যে, বর্তমানের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি সামলানোর জন্য পরিকল্পিত এই রোডম্যাপটি দীর্ঘ মেয়াদের জন্য টেকসই নয়।

নথিতে আরো বলা হয়েছে, ‘সম্মিলিত সামাজিক দূরত্ব পালনের মাধ্যমে লাভবানরা যখন প্রস্তুত হবে, কেবলমাত্র তখনই এলাকাভিত্তিকভাবে পর্যায়ক্রমে সাবধানতার সাথে বাড়িতে অবস্থান করার নির্দেশনা তুলে নেয়া হবে। এই সময় থেকে প্রাপ্ত লাভগুলি প্রসারিত করতে সহায়তা করবে।’

বিশে^র অন্যান্য দেশরে তুলনায় করোনা মহামারীতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও প্রাণহানি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে।
করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণাকারী জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসেব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে এপর্যন্ত ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে। আক্রান্ত ৬ লাখেরো বেশি। সূত্র : এএফপি, হেভি।