hasina

অস্থির স্বর্ণের বাজার

9

করোনায় বাড়ছে স্বর্ণের দাম। অবাক হওয়ার খবর এটা যে দামের বিচারে বিগত ৭ বছরের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ। রোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির কারণে বছরের শুরু থেকেই স্বর্ণের বাজার টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধির জের ধরে একবার স্বর্ণের দাম বাড়ছে, পরক্ষণেই ফের কমে আসছে। উত্থান-পতনের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। ওইদিন মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়ে সাত বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠেছে। খবর বিজনেস লাইন ও মার্কেট ওয়াচ।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডবিউজিসি) প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্পট মার্কেটে এদিন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ওঠে ১ হাজার ৭৪১ ডলার ৯০ সেন্টে। ২০১২ সালে ডিসেম্বরের পর এটাই স্বর্ণের সর্বোচ্চ স্পটমূল্য। অন্যদিকে দিন শেষে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হয় ১ হাজার ৭৬১ ডলার ৪০ সেন্টে, যা ২০১৩ সালের ফেব্রম্নয়ারির পর সর্বোচ্চ।

স্বর্ণের এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কার্যত দুটো কারণ চিহ্নিত করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। প্রথমত, নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির কারণে বিনিয়োগকারীর মধ্যে নিরাপদ বিবেচনা করে বাড়তি স্বর্ণ কেনার প্রবণতা। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান খাতে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা।

মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে ১ কোটি ৬৮ লাখ মানুষ বেকার তহবিল থেকে ভাতা পেতে সরকারের কাছে আবেদন করেছে।

আগামী দিনগুলোয় কাজ হারাবেন, এমন শঙ্কায় ভুগছেন অনেক মানুষ। স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ও সম্ভাব্য মন্দার ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বা ফেড ২৩ হাজার কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

এ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের প্রতি ঝুঁকতে বাধ্য করেছে। এ বিষয়ে শিকাগোভিত্তিক বস্নু লাইন ফিউচার্সের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ ফিল স্ট্যাইবেল বলেন, আপতকালীন স্বর্ণকে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে অর্থনৈতিক মন্দার মুখে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। বাড়তে শুরু করেছে দাম। এ ধারাবাহিকতায় স্বর্ণের দাম সাত বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠেছে।