hasina

কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশে ছাড় চায় বিএমবিএ

5

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশে বিদ্যমান সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় কোম্পানিগুলোর পক্ষে চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি ও প্রকাশ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। ফলে কোম্পানিগুলোর তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদন একসঙ্গে জমা দেয়ার সুযোগ দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অনুরোধ করেছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। সম্প্রতি বিএমবিএর পক্ষ থেকে বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিএমবিএর চিঠিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পাশাপাশি বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান যেমন ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর মাসিক ও প্রান্তিক প্রতিবেদন তৈরি ও জমা দেয়ার ক্ষেত্রেও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছাড় চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে প্রান্তিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার ক্ষেত্রেও জুন পর্যন্ত ছাড় চায় সংগঠনটি।

বিএমবিএর চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানিগুলোর ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুম চলছে এখন। এরই মধ্যে কিছু কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণাও করেছে। সে ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে তাদের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সাধারণ ছুটির কারণে পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় ছুটির মধ্যে যেসব কোম্পানির রেকর্ড পড়বে, তারা বিনিয়োগকারী বাছাই ও লভ্যাংশ দেয়ার ক্ষেত্রে

জটিলতায় পড়বে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বশেষ কর্মদিবসে বিনিয়োগকারীদের কাছে যে কোম্পানির শেয়ার রয়েছে, তারা সেই কোম্পানির লভ্যাংশ পাবেন এমন নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীরা এ কঠিন সময়ে কিছু অর্থ পাবেন। পাশাপাশি কোম্পানিগুলো যেন এজিএমের তারিখের ১৫ দিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব অথবা ব্যাংক হিসাবে সরাসরি লভ্যাংশ পাঠিয়ে দেয়, সে বিষয়েও বিএসইসির কাছ থেকে নির্দেশনা চেয়েছে বিএমবিএ। সংগঠনটি বলছে, এমনটি করা হলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন।

বিএমবিএর প্রেসিডেন্ট মো. ছায়েদুর রহমান এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক কোম্পানি, ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে প্রান্তিক প্রতিবেদন তৈরি করা সম্ভব নয়। এ কারণে আমরা কমিশনের কাছে এ বিষয়ে ছাড় চেয়েছি। তাছাড়া ছুটির মধ্যে কিছু কোম্পানির

রেকর্ড ডেট পড়বে। সে ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডার কীভাবে বাছাই করা হবে, আমরা সে বিষয়েও কমিশনের দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করছি। এসব বিষয় বিবেচনা করা হলে এ দুঃসময়েও বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ বাবদ কিছু নগদ অর্থ পাবেন।

এরই মধ্যে গ্রামীণফোন, ইবনে সিনা, হাইডেলবার্গ সিমেন্টসহ কিছু কোম্পানি তাদের প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আবার কিছু কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদন তৈরি না হওয়ার কারণে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। তারাও এ বিষয়ে বিএসইসির কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রত্যাশা করছেন।

এ বিষয়ে বিএসইসির কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে কভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে কোম্পানিগুলোর এজিএম, বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) ও পর্ষদ সভা আয়োজন, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ এবং মাসিক ও প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও জমার ক্ষেত্রে লিস্টিং রেগুলেশন ও সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজ আইন পরিপালনের ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কোম্পানিগুলোর জন্য কী করণীয়, সে বিষয়ে এরই মধ্যে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এরই মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য বেশকিছু আইন শিথিল করা হয়েছে। তার পরও যদি কোনো কোম্পানির পক্ষে আইনি বাধ্যবাধকতা পরিপালনে সমস্যা হয়, তবে কমিশন তা-ও বিবেচনা করবে। ফলে এ নিয়ে কোম্পানিগুলোর কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান তিনি।