এশিয়ার বাজারে কমতির দিকে চালের দাম

12

করোনার কারণে খাদ্য সংকটের আশংকায় সারাবিশ্ব। এমন সময় ভালো খবর হলো এশিয়ার শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলোয় চালের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে। সর্বশেষ সপ্তাহে ভারতে রুপির দরপতনে খাদ্যপণ্যটির দাম আট মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কমেছে। কমতির দিকে রয়েছে থাই চালের দামও। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও রয়টার্স।

ভারত বিশ্বের শীর্ষ চাল রপ্তানিকারক দেশ। সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটির বাজারে রপ্তানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৩৭৪-৩৭৯ ডলারে বিক্রি হয়। এর আগের সপ্তাহে খাদ্যপণ্যটি টনপ্রতি ৩৭৫-৩৮০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। গত আট মাসের মধ্যে এটাই ছিল ভারতের বাজারে চালের সর্বোচ্চ দাম। সেই হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভারতের বাজারে প্রতি টন চালের দাম কমেছে ১ ডলার।

ভারতীয় ট্রেডাররা জানান, আফ্রিকার দেশগুলোয় ভারতীয় চালের রপ্তানি চাহিদা ভালোই রয়েছে। আগামীতে এশিয়ার দেশগুলোয় খাদ্যপণ্যটির রপ্তানি চাহিদা বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। তবে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চলমান লকডাউনের মধ্যে পরিবহণ সংকট থাকায় সরবরাহ কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। একই সঙ্গে গত সপ্তাহে ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন দেশটিতে রপ্তানিযোগ্য চালের দাম আগের তুলনায় কমিয়ে দিয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল রপ্তানিকারক দেশ থাইল্যান্ডেও। দেশটির বাজারে সর্বশেষ সপ্তাহে রপ্তানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫৩৮ ডলারে বিক্রি হয়। এর আগের সপ্তাহে খাদ্যপণ্যটির সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ৫৫৬ ডলারে।

ব্যাংককভিত্তিক ট্রেডাররা জানান, দেশজুড়ে খরার পরও চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে সেই তুলনায় নতুন রপ্তানি চুক্তি হচ্ছে না। অনেক রপ্তানিকারক আশা করেছিলেন, মহামারির কারণে অভ্যন্তরীণ মজুদ বাড়াতে ভিয়েতনাম সাময়িক রপ্তানি বন্ধ করায় থাইল্যান্ড থেকে চাল রপ্তানি বাড়তে পারে। তবে বাস্তবে সে রকম হয়নি। এ কারণে থাই চালের দামে পতন দেখা দিয়েছে।

এদিকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল রপ্তানিকারক ভিয়েতনাম চাল রপ্তানিতে সাময়িক স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে। এমনকি দেশটির সরকার চলতি মাসের জন্য চাল রপ্তানির কোটা চার লাখ টন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও এরপরও দেশটির রপ্তানিকারকরা নতুন কোনো রপ্তানি চুক্তি পাননি। সর্বশেষ সপ্তাহে ভিয়েতনামের বাজারে রপ্তানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৪৪০-৪৫০ ডলারে বিক্রি হয়।

উলেস্নখ্য, নভেল করোনাভাইরাস মহামারির সময় অভ্যন্তরীণ খাদ্য শৃঙ্খল রক্ষা ও জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল রপ্তানিতে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছিল ভিয়েতনাম। তবে খাদ্যপণ্যটির রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে এরই মধ্যে তা তুলে নিয়েছে দেশটি।