hasina

ব্যাংকিং খাতকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

4

করোনাপূর্ণ অর্থনীতিতিতে ফিরে যেতে ব্যাংকের সহযোগিতা প্রয়োজন। করোনার সময়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবন করতে হলে ব্যাংকগুলোকে আরো দক্ষ ও সময় উপযোগি হতে হবে। এই সময়ে ব্যাংকগুলোর অযথা বা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে। সরকারের প্রনোদনা প্যাকেজগুলিকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের আরো সহায়তা প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকল্প অর্থায়নের জন্য একটি বন্ড বাজারের বিকাশের জন্য সবার পরামর্শ দরকার।

গত মঙ্গলবার ব্যাংক খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যাংকারদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার উপস্থিত ছিলেন।

কনফারেন্সে ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে কীভাবে অর্থনীতিতে সরকারী উদ্দীপনা প্যাকেজগুলি বিতরন করা যায়, কীভাবে অর্থনীতিকে ট্র্যাকের দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিএবি এবং এবিবির চেয়ারম্যান দুজনেই করোনভাইরাসের কারনে অর্থনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে ৯৮ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার সরকারী প্রনোদনা প্যাকেজের প্রশংসা করেছেন। প্যাকেজের সামগ্রিক আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশে।

অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় তহবিল ইনজেকশনের জন্য তারল্য সংকট দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) নীতিগত উদ্যোগ ও নীতিসহায়তার প্রশংসা করেন এবিবি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার। এছাড়া ব্যাংক ঘোষিত আর্থিক উদ্দীপনা প্যাকেজগুলি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক সিআরআর হারকে ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বা ৪ শতাংশে নামিয়েছে। যা আগে ছিলো ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া রেপো হার ৬ শতাংশ থেকে ৭৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে নামানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের পদক্ষেপের কারনে করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরে আমানত সঙ্কুচিত হবার পরেও নগদ অর্থের উচ্চ প্রবাহেরর চাপ সত্তে¡ও ব্যাংকগুলি তাদের তহবিলকে দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যাংকিং খাতের উদ্যোক্তাদের এনপিএল কমিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। কারন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সামনের রাস্তা চ্যালেঞ্জ হবে। তিনি ব্যাংকগুলি পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনা এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর যে হারে আয়-ব্যয় অনুপাত রয়েছে সেটিতে কিভাবে উন্নীত করা যায় সেবিষয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। করোনাকালে অযথা ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতটি অর্থনীতির লাইফলাইন। তিনি ব্যাংকার ও উদ্যোক্তাদের আশস্থ করেন, সরকার অর্থনীতিকে করোনভাইরাস পূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকিং খাতকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।