লকডাউনে কাজ হারাতে পারে ১৬০ কোটি মানুষ :জাতিসংঘ

9

সারাবিশ্ব এক প্রকার অচল। অচেনা একবিশ্ব দেখছে পৃথিবীর মানুষ। কাজ নাই, এমনকি ঘর হতে বের হওয়া ও যাচ্ছে না। হুহু করে বাড়ছে বেকার মানুষের সংখ্যা। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের প্রায় ১০ কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হবে বলে আশঙ্কা নগর বিশেষজ্ঞদের। ‘ম্যাপিং টুল’ ব্যবহার করে এখনই দরিদ্র ও অরক্ষিত এসব জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত এবং বস্তিতে যথেষ্ট বিনিয়োগ করার আহ্বান তাদের। সংবাদসূত্র : বিবিসি, এবিপি নিউজ

বিশ্বের বড় বড় শহরে গড়ে ওঠা ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিগুলো করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে। সেখানে নিরাপদ পানির অভাবের পাশাপাশি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা কিংবা স্বাস্থ্যসেবার মান নিম্নগামী। বিশ্বব্যাংক, ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইন্সটিটিউট ও অন্য নগর গবেষণার বিশেষজ্ঞরা এ আশঙ্কার কথা জানান।

বিশ্বব্যাংকের নগর, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, স্থিতিস্থাপকতা ও বৈশ্বিক স্থল কার্যক্রমের গেস্নাবাল ডিরেক্টর সামেহ ওয়াহবা বলেন, ‘শহরগুলোতে যাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য দরকার, যারা গরীব ও অরক্ষিত তাদের দিকে আমাদের নজর দেওয়া দরকার। আমাদের হিসাবে চাকরি, আয় ও জীবিকা নির্বাহের পথ হারিয়ে সম্ভবত ১০ কোটি মানুষ তথাকথিত নতুন দরিদ্র হবে।’ তিনি আরও বলেন, মহামারি শেষে আগামী বছর শহরগুলোতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। তাতে বস্তির উন্নয়নে বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়বে শহর কর্তৃপক্ষের জন্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শহরের কর্তৃপক্ষের কাছেই বস্তিগুলোর অবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তাতে কোথায় বিনিয়োগ করতে হবে জানতে পারেন না তারা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, হাই-রেজু্যলেশন স্যাটেলাইট ইমেজারি ও থ্রিডি ইমেজ ব্যবহার করে বিশ্বের বড় শহরের পানি ও টয়লেটের সুবিধাবঞ্চিত ও ঘনবসতির কারণে সামাজিক দূরত্ব অকার্যকর হয়ে ওঠা এলাকাগুলো চিহ্নিতের কাজ শুরু করেছে বিশ্বব্যাংক। ওয়াহবা বলেন, এই প্রযুক্তি এখন পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে কায়রো, মুম্বাই ও কিনশাসায়।

এদিকে, করোনাভাইরাস এবং তার মোকাবিলায় ধুঁকছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যে পড়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক-কর্মীদের বিরাট অংশ। জাতিসংঘের শেষ পর্যবেক্ষণ রিপোর্টে এই অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরও বাড়ল।

ওই রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এই অসংগঠিত ক্ষেত্রে বিশ্বের মোট ১৬০ কোটি মানুষ কাজ হারাতে পারে। যা সারা বিশ্বে মোট কর্মী সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তৃতীয় রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই আতঙ্কের ছবি। তাই আইএলও’র ডিরেক্টর জেনারেল গাই রেইডার বলেছেন, এই শ্রমিকদের এখনই সাহায্য না করলে বিপুল সংখ্যক মানুষ কার্যত শেষ হয়ে যাবে।

আইএলও’র হিসাবে সারা বিশ্বে চাকরি করে প্রায় ৩৩০ কোটি মানুষ। তার মধ্যে প্রায় ২০০ কোটি মানুষই অসংগঠিত ক্ষেত্রে। আইএলও আগের দু’বারের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের জেরে এই অসংগঠিত ক্ষেত্রে বহু মানুষ কাজ হারিয়েছে। আরও বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এবার প্রকাশিত হলো, সংস্থাটির তৃতীয় পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ‘কোভিড-১৯ অ্যান্ড দি ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক’। সেই রিপোর্টেই উঠে এসেছে এমন উদ্বেগের চিত্র।