কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্যাকেজের ৩ হাজার ৪৭ কোটি টাকার আবেদন

4

শ্রমিকদের বেতন দিতে সরকার ঘোষিত প্যাকেজ থেকে ঋণ নিতে আবেদন করেছে ২ হাজার ৪৪টি শিল্প কারখানা। ৪৭ টি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৭ কোটি টাকার আবেদন জমা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। আবেদনের বিপরীতে ২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।

৪৭ টি ব্যাংকের ৩ হাজার ৪৭ কোটি টাকার মধ্যে ৫৪০ কোটি টাকার চাহিদা দিয়েছে এক্সিম ব্যাংক। ১২২ টি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরি দিতে এই টাকার আবেদন করেছে ব্যাংকটি। সাউথইস্ট ব্যাংক ১৫০ টি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের জন্য ৪৪০ কোটি টাকা চেয়েছে বলে জানা গেছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণজনিত অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার গার্মেন্টসসহ রপ্তানি খাতের জন্য প্রণোদনা হিসেবে ৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণের এক রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে। তবে শর্ত হলো, এ টাকা দিয়ে শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে। মালিকরা এই টাকা পাবেন ২ শতাংশ হারের সুদে, ঋণ হিসাবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে শিল্প তাদের উৎপাদনের ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে, তারাই এই প্রণোদনার টাকা পাবে। গত ২ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই সার্কুলারে বলা হয় যেসব কারখানা গত ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন দিয়েছে, তারাই বিবেচিত হবে সচল প্রতিষ্ঠান হিসেবে। ঋণ পেতে পাশাপাশি ওই তিন মাসের রপ্তানি কার্যক্রমও থাকতে হবে তাদের।

বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে তার মধ্যে যেকোনো একটি ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তিন মাসের বেতন বই পরীক্ষা–নিরীক্ষা করবে। এর পরই ঋণের জন্য ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন কারখানার মালিকেরা। তবে তিন মাসে যা বেতন দেওয়া হয়েছে, গড়ে তার চেয়ে বেশি ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে না। ঋণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো সুদ নেবে না, তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ২ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল নিতে পারবে।

নীতিমালায় বলা হয়, ব্যাংকগুলো ঋণের জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে থেকে ঋণ নেবে। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানকে দেবে। ২০ এপ্রিলের মধ্যে ঋণের জন্য আবেদন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক তিন দফায় তিন মাসের বেতনের টাকা দেবে। এটা শুরু হবে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে, চলবে জুন পর্যন্ত।

নীতিমালা অনুযায়ী, বেতনের টাকা সরাসরি শ্রমিকের ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেবে ব্যাংক। যাদের হিসাব নেই, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব (এমএফএস) খোলার উদ্যোগ নিতে হবে। শ্রমিকেরা চাইলে বিনা মাশুলের ব্যাংক হিসাবও খুলতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই শ্রমিকদের এনআইডি পরীক্ষা করতে হবে

আরও বলা হয়েছে, এ ঋণের টাকা বাংলাদেশ ব্যাংককে ২ বছরের মধ্যে শোধ করবে ব্যাংকগুলো। এ জন্য প্রথম ৬ মাস ঋণ পরিশোধে বিরতি পাবে, পরের ১৮ মাসে ১৮ কিস্তিতে টাকা শোধ দিতে হবে।