বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এমন ত্যাগ আর কেউ করেনি’

4

বাংলাদেশ ক্রিকেটের আনসাং হিরো বলা হয় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। বাংলাদেশের জয়ে খুব কম সময়েই হতে পেরেছেন ‘মূল’ নায়ক। বেশির ভাগই থেকেছেন পার্শ্বনায়ক হয়ে। অথচ বাংলাদেশের বেশিরভাগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে ৩৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের। অসাধারণ একজন ব্যাটসম্যানও তিনি। কিন্তু পারিসংখ্যান দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই। দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাহমুদুল্লাহকে ব্যাট করতে লোয়ার মিডলঅর্ডারে। উপরের দিকে ব্যাট করতে পারলে হয়তোবা এতদিন ৭-৮ হাজার রান থাকতো তার নামের পাশেও।

তামিম ইকবালের সঙ্গে সোমবারের (৪ঠা মে) ফেসবুক আড্ডায় বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের জন্য তাই আক্ষেপ ঝরলো মাশরাফির কন্ঠে।

‘রিয়াদ এমন একজন ব্যাটসম্যান, ও যদি চার-পাঁচ নম্বরে ব্যাট করার সুযোগ পেত, ওর পরিসংখ্যানও কিন্তু ভালো হতো। দলের ভালোর জন্য ওকে আমাদের ছয়ে ব্যাট করাতে হচ্ছে। আমাদের নিচের দিকে এরকম ব্যাটসম্যান নাই যে বিধ্বংসী খেলতে পারে। দলের জন্য খেলতে গিয়ে ওর ক্যারিয়ারে অনেক রান হারিয়েছে। অনেক সময়ই রিয়াদ মন খারাপ করেছে। আমি বুঝিয়েছি, সে হাসিমুখে মেনে নিয়েছে। আজকে ওর নামের পাশেও ৭-৮ হাজার রান থাকতে পারত। কিন্তু ওকে দলের জন্য খেলতে হয়েছে। খুব কঠিন কাজ করতে হয় ওকে। ওর কাজটা এমন, সব দিন সফল হবে না। সফল না হলে দর্শক, মিডিয়া, সব জায়গায় সমালোচনা শুনতে হয় ওকে। তার পরও করে যাচ্ছে। সে সিনিয়র ক্রিকেটার, তবু একদিনও এসে কিন্তু বলেনি যে চারে ব্যাট করতে চাই। বাংলাদেশ দলের জন্য সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করে আসছে সে।’

১৩ বছরের ক্যারিয়ারে ৪৯ টেস্টে ২ হাজার ৭৬৪ করেছেন মাহমুদুল্লাহ। সেঞ্চুরি ৪ ও হাফসেঞ্চুরি ১৬টি। ১৮৮ ওয়ানডেতে ৩ সেঞ্চুরি ও ২১ ফিফটিতে করেন ৪ হাজার ৭০ রান। আর ৮৭ টি-টোয়েন্টিতে রান করেছেন ১ হাজার ৪৭৫। ৪টি ফিফটি করলেও ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে এখনো শতরানের দেখা পাননি এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।