বেড়ায় দুর্গম চরে ফেলে যাওয়া বৃদ্ধ করোনা আক্রান্ত নন

10

পাবনার বেড়া উপজেলার দুর্গম চরে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত হওয়া সেই বৃদ্ধ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ল্যাবে তার নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মানসিক ভারসাম্যহীন ওই বৃদ্ধের স্বজনদের খোঁজ না পাওয়ায় তাকে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত যমুনা নদীর দুর্গম চরসাফুল্যা গ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধকে (৭০) ফেলে রেখে যাওয়া হয়। ওই বৃদ্ধের শরীরে জ্বর, সর্দি, কাশিসহ করোনার উপসর্গ ছিল। এলাকাবাসীর ধারণা, করোনার উপসর্গ থাকার কারণেই যাত্রীবাহী কোনো নৌকা থেকে ওই বৃদ্ধকে সেখানে নামিয়ে দেওয়া হয়। অসুস্থ হয়ে তিনি গ্রামের একটি বাড়ির কাছে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকলে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়। এতে ২০ এপ্রিল ইউএনও এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে ভর্তি করে রাখা হয়। এর পরদিন তার নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োজি বিভাগের ল্যাবে পাঠানো হয়। গত শুক্রবার (১ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানতে পারে ওই বৃদ্ধ করোনা আক্রান্ত নন। ইতোমধ্যেই তিনি জ্বর-কাশি থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

এদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই বৃদ্ধের স্বজনদের খোঁজ না পাওয়ায় তাকে নিয়ে বিপাকে পড়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। করোনা আক্রান্ত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই উপজেলা প্রশাসন তাকে পুনর্বাসনের নানা উদ্যোগ চালিয়ে আসছিল। গত কয়েকদিন ধরে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন ইউএনও। গত সোমবার তার জন্য সেখানে একটি সিট পাওয়া যায় বলে জানা যায়।

ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, ওই বৃদ্ধ মারাত্মক অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছিলেন। তাকে উদ্ধার করে আনার পর থেকেই আমরা তার প্রতি যত্নবান ছিলাম। তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় ভালো লাগছে। তবে পরর্বতীতে যদি কেউ তার পরিচয় নিয়ে আসে, তবে মানসিক হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে পারবে।