লকডাউন তোলার আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৬ পরামর্শ

2

করোনা মহামারিতে থেমে আছে সারা বিশ্ব। বন্ধ অর্থনীতির চাকা। দরিদ্র, অসহায়, আর মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাধ্য হয়ে কোনো কোনো দেশ লকডাউন শিথিল করছে অথবা পুরোপুরি তুলে নিতে শুরু করেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে পরিস্থিতি আরো ভয়ানক আকার ধারণ করবে। সংক্রমণ ছড়াবে দ্রুতগতিতে। এ অবস্থায় লকডাউন তুলে নেয়ার আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৬টি পরামর্শ দিয়েছে। বলেছে, এসব শর্ত পূরণ করতে পারলেই লকডাউন তুলে নেয়া যেতে পারে।

তা নাহলে অবস্থার মারাত্মক অবনতি হবে। বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেডরোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই পরামর্শ দেন। এগুলো হলো-

ক. লকডাউন তোলার আগে নজরদারি জোরদার করতে হবে। রোগীর সংখ্যা কমে আসতে হবে। নিয়ন্ত্রণে আসতে হবে সংক্রমণ।

খ. প্রতিজন রোগীকে চিহ্নিত করা, আলাদা করা, পরীক্ষা ও চিকিৎসা করার সক্ষমতা থাকতে হবে স্বাস্থ্য বিভাগের। এ ছাড়া রোগীর সংস্পর্শে যারা যাবেন তাদেরকেও শনাক্ত করার সক্ষমতা থাকতে হবে।

গ. যেসব স্থানে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে সেখানে এবং নাসিং হোমগুলোর মতো বিশেষ ব্যবস্থাগুলোয় সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে আসতে হবে।

ঘ. কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্য যেসব জায়গায় মানুষকে যাতায়াত করতে হয়, সেসব স্থানে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।

ঙ. বিদেশফেরত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি থাকতে হবে।

চ. ‘নতুন স্বাভাবিকতায়’ সমাজের সবাইকে সজাগ ও সংশ্লিষ্ট করতে হবে এবং এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তাদের ক্ষমতায়ন করতে হবে।
আধানম ঘেব্রেয়েসাস বলেন, যদি দেশগুলো অন্তর্বর্তী সময়টায় খুব যত্নবান না হয় এবং ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ শিথিল না করে, তাহলে মহামারি আবারও ছড়িয়ে পড়ার কারণে আবার লকডাউনের পথে হাঁটতে হতে পারে