বাংলাদেশ ফুটবলের প্রান তরফদার মোঃ রুহুল আমিন

136

কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের অশনি আগমনীতে সারা বিশ্ব থমকে আছে, থমকে আছে অতি অবশ্যই ক্রীড়াঙ্গনও। পৃথিবীজুড়ে ভয়াবহ আতংক, মৃত্যু, অসুস্থতার খবর, শংকা— এমন কিছুর মধ্য দিয়েই চলছে অস্থিতিশীল জীবন পরিক্রমা। ফুটবল থেকে শুরু করে বিনোদনমূলক খেলা রেসলিংও যেন নিষ্প্রাণ নাটকীয়তায় এগিয়ে যাচ্ছে। যেখানে টিভি সেট অন করলে দেখা যাচ্ছে, কুস্তিগিরেরা দর্শকশুন্য স্টেডিয়ামের মঞ্চে লড়ছে। ইউরোপের ফুটবল লীগগুলো বন্ধ আছে।এদিকে কোভিড-১৯ প্রতিহত করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কর্মীবৃন্দ লড়াই করে যাচ্ছে। সারা বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানেরা উদ্বিগ্ন থেকে এই সংকটকে মোকাবেলা করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় নিম্নবিত্ত মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটাতে সমাজের স্মাবলম্বি মানুষগুলো গোষ্ঠীগত সাহায্যের উদারতায় থেকে এগিয়ে আসছেন। বাংলাদেশেও ক্রিকেট খেলোয়াড়েরা অভিনব উদ্যোগে যেয়ে ক্ষুদ্র আঙ্গিকে মানুষের পাশে থাকবার দৃষ্টান্তে গিয়েছে। তবে ক্রীড়া সংগঠক হিসাবে তেমন কাউকে দেখা যায় নি। দেশের ফুটবল ভবিষ্যতের জন্য যিনি গেল কয়েক বছর ধরে লড়ছেন, সেই তরফদার রুহুল আমীন অবশ্য বসে ছিলেন না। সাম্প্রতিক সময়ে বাফুফে সভাপতি পদে নির্বাচন করা হতে বিরত থাকার ঘোষণা দিলেও তরফদার ঠিকই সামর্থ্যের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

গেলো এপ্রিলের শুরুর দিকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করায় বন্ধ হয়ে যায় ফুটবলসহ দেশীয় খেলাধুলার সব আসর । বিভিন্ন পর্যায়ে ঘরোয়া ফুটবল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে ফুটবলার আর ফুটবল সংশ্লিষ্ট অন্যরা । বিশেষ করে ক্রীড়াঙ্গনে যারা দুঃস্থ পর্যায়ে আছেন , তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন তরফদার মোঃ রুহুল আমিন ।

তরফদার মোঃ রুহুল আমিন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিডিএফএ) মহাসচিব এবং বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাবস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফসিএ) সভাপতি তরফদার হিসেবে অসহায় ২০০ কোচকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন । সংগঠন দুইটির তরফ থেকে গঠন করা হয় একটি তহবিল । সেখান থেকেই তালিকা করে তৃণমূল পর্যায়ের কোচদের সহায়তা প্রদান করেন রুহুল আমিন ।

দেশের অন্যতম বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের কর্ণধার রুহুল আমিন সেই সময়ে এক ভিডিও বার্তায় জানান , ‘ ফুটবলার তৈরির কারিগর তথা কোচ, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল খেলোয়াড়দের জন্য আমারা একটা আর্থিক ফান্ড গঠন করছি। দেশের বিত্তশালীদের আহ্বান করছি আপনার সহযোগিতার হাতকে আরও প্রসারিত করুন। ‘

তরফদার রুহল আমিন আরও বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনে আমাদের যারা দুস্থ কোচ, অভাবি খেলোয়াড় আছেন, সংগঠক আছেন আপনারা তাদেরকে একটু সাপোর্ট দিন। তাদেরকে সাপোর্ট দিলে বাংলাদেশের ফুটবল, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন সুস্থ থাকবে।’

এছাড়াও এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য গঠিত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান হিসাবে দিয়েছেন ২ কোটি টাকা। তরফদার মো. রহুল আমিন এর পাশাপাশি চট্টগ্রামে বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের দিকেও তার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের মাঝে খাদ্য প্রদান করে যাবেন। আবার প্রশাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও তিনি ত্রাণ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

মোট কথা , করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে সৃষ্ট সংকটের সময়ে তরফদার মোঃ রুহুল আমিনকে দেখা গেছে সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে । আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের একটা উল্লেখযোগ্য জীবনের ভার বহনের । অন্তত এই সংকটের সময়ে অনেক দুঃস্থ মানুষের জীবনের চাকা চলমান আছে রুহুল আমিনের নেয়া উদ্যোগে , যা সত্যি প্রশংসনীয় ।

তরফদার, যাকে ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার অভিলাষে সংগঠক, খেলোয়াড়, ভক্তরা মুখিয়ে ছিলেন, তিনি নিজেকে শীর্ষ নেতৃত্বের জায়গাটায় না থাকতে চাইলেও, থেকেছেন খেলার সাথে সম্পৃক্ত মানুষের পাশে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিলে অর্থ দিয়ে প্রমাণ করেছেন পুনরায়—- বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য একজন তরফদারকেই দরকার।