বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান আজেভেদোর পদত্যাগ

1

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক রর্বাতো আজেভেদো পদত্যাগ করছেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করছেন। সেপ্টেম্বরে তার পদত্যাগের ইচ্ছা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির মুখপাত্র কিথ রকওয়েল এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিন এএফপিকে পাঠানো একটি ই-মেইল বিবৃতিতে তিনি বলেন, এর আগে আর কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

ব্রাজিলিয়ান ৬২ বছর বয়সী এ কূটনীতিক ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২১ সালে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

তার পদত্যাগের খবরটি এমন এক সময় এল যখন করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহামন্দার কবলে পড়েছে। বর্তমান অবস্থা ১৯৩০ এর দশকের মহা মন্দার সঙ্গে তুলনা করছে ডব্লিউটিও।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের কারণে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সরে যেতে চাচ্ছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে নিজেদের নীতি পরিবর্তন না করলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প।

ডব্লিউটিওর মুখপাত্র কিথ রকওয়েল বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে ঠিক কবে আজোভেদো পদত্যাগ করছেন, কি কারণে তিনি এভাবে সময়ের আগেই সরে দাঁড়াচ্ছেন সে সম্পর্কে কিছু জানাননি তিনি। এখনই বিস্তারিত জানানোর সময় আসেনি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর এএফপি ও ব্লুমবার্গের।
করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগময় সময়ে তার পদত্যাগ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বেশ অস্বস্তির খবর। বিশেষ করে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য এটি যথেষ্ট উদ্বেগের একটি বিষয়। কারণ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা অবাধ বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে উন্নত দেশগুলোর বাজারে এসব দেশ শুল্ক সুবিধা পেয়ে আসছে। কিন্তু করোনা পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতিতে রক্ষণশীলতা বাড়তে পারে, স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার অজুহাতে বিদেশী পণ্য আমদানিতে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আসতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে। এমনিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছিল, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা মার্কিন স্বার্থের বিপক্ষে কাজ করে। মনে করা হচ্ছে আজোভেদোর পদত্যাগের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চাপ যথেষ্ট ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। করোনা পরবর্তী সময়ে এই চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশংকা আছে।
করোনা পরবর্তী সময়ে যদি বিশ্ব বাণিজ্য রক্ষণশীলতা বেড়ে যায়, তাহলে বাণিজ্য ব্যাহত হবে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হবে বিলম্বিত। সব মিলিয়ে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির সংকট প্রলম্বিত হবে।