কোভিড-১৯ মহামারী ও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার

198

কোভিড-১৯ মহামারী এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য এবং মানবিক সংকট। এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতি এবং পুঁজিবাজারকে বড় এক সংকটে নিয়ে গেছে। বিশ্ব নেতৃত্ব, সব দেশের সরকার প্রধানগণ বিভিন্ন প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনীতি সচল করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে, পুঁজিবাজারের সংকট মোকাবেলা করার জন্য আমরা তিনটি পর্যায় ভেবে সামনে অগ্রসর হতে পারি– স্থিতিশীলতা, পূর্ণগঠন এবং পুনরুদ্ধার।

 

আমরা বিভিন্নভাবে দেখেছি যে, পুঁজিবাজার খুবই স্পর্শকাতর। সরকার, নীতিনির্ধারন প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজারের সাথে সম্পর্কিত সকল প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগকারীদের টিকিয়ে রাখার জন্য সমন্নিতভাবে কাজ করতে হবে। একমাত্র আস্থাই পারে বিনিয়োগকারীদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে। প্রাতিষ্ঠানিক এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বাজারে ফিরিয়ে আনার জন্য ব্রোকার হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর উদ্যোগ নিতে হবে। পুঁজিবাজারের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করে এর সমাধান না করলে দেশের অর্থনীতির এই খাত আরও বড় ধাক্কা খাবে।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে, এই শিল্পের উন্নয়নের জন্য সরকারকে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে নতুন বিনিয়োগকারীরা মার্কেটে নতুনভাবে বিনিয়োগ করতে পারে। বাই ব্যাক আইন হতে পারে মার্কেটের গতি ফিরানোর বড় হাতিয়ার। পাবলিক ইস্যু রুলস সংশোধন, লিস্টেড কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, মার্চেন্ট ব্যাংকের মার্জিন অ্যাকাউন্ট এর সুদ হার পুনঃ নির্ণয়। কোভিড-১৯ চলাকালীন সময়ে সুদ মওকুফ, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য তহবিল গঠন হতে পারে পুঁজিবাজার পুনর্গঠন এর চালিকাশক্তি।

তৃতীয়ত, পুঁজিবাজার পুনরুদ্ধার এর জন্য কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রিত হলে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করে সাজাতে হবে। এর ফলে পুঁজিবাজারের আকার বড় হবে। পুঁজিবাজার সরকারকে বিভিন্ন মেগা প্রোজেক্টে অর্থায়ন করতে পারবে। ফেয়ারনেস ওপেনিওন, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট, কিউ আই ও, স্টার্টআপদের জন্য আলাদা প্লাটফর্ম, স্টক এক্সচেঞ ডিজিটালাইজেশন হতে পারে পুঁজিবাজার পুনরুদ্ধার এর শক্তিশালী মাধ্যম। চলমান হবে পুঁজিবাজার, চলমান হবে অর্থনীতি।

নোমানুর রাশীদ

পুঁজিবাজার প্রফেশনাল।