করোনাকালে ১২ টি চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হাফিজিয়া মাদরাসাগুলো

36

১.হাফেজ হতে হলে ধারাবাহিকভাবে চর্চা করতে হয়। হিফজ বিভাগে পড়ালেখারত ছাত্রদের ঘাম ঝরানো মেহনত করে কোরআন শরিফ মুখস্থ করে বাড়িতে অবস্থান করে ভুলে যাচ্ছে।

২.অনেক শিক্ষক লকডাউনের সঙ্গে সঙ্গে মাদরাসার অর্থনৈতিক কারণে চাকরি হারিয়েছেন।

৩.প্রায় ৯৯ শতাংশ মাদরাসায় অর্থসংকটে তিন থেকে চার মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।

৪.ভাড়ায় চালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া না দিতে পারায় এরই মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

৫.কঠোর অনুশাসনের মাধ্যমে কোরআন মুখস্থ করতে হয়। দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকায় সে অনুশাসন থেকে শিশুরা বেরিয়ে পড়ছে। প্রায় ৯৫ শতাংশ ছাত্রের এরই মধ্যে পোশাক ও চুলের কাটিংয়ে পরিবর্তন এসেছে।

৬.হাফিজিয়া মাদরাসাগুলোতে অনেকটা আবদ্ধ জীবন কাটাতে হয়। করোনাকালে উন্মুক্ত জীবনে অভ্যস্ত হয়ে এরই মধ্যে এসব শিক্ষার্থীর অনেকে অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

৭.অমনোযোগী ছাত্ররা এরই মধ্যে পড়াশোনা ছাড়তে বসেছে, যার সঠিক পরিমাণ মাদরাসা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই পরিলক্ষিত হবে।

৮.নিম্ন আয়ের পরিবারের ছাত্ররা এরই মধ্যে পরিবারের কর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে, যাদের কমপক্ষে ৪০ শতাংশ হলেও পড়াশোনায় আসার সম্ভাবনা কম।

৯.মাদরাসার বেতন বন্ধ থাকায় কোনো কোনো শিক্ষক ভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে তাঁদের অনেকে আর শিক্ষকতা পেশায় ফিরবেন না।

১০.মাদরাসাগুলো এমন কিছু যোগ্য শিক্ষক হারাচ্ছেন, যাঁদের নিয়ে পরিচালকরা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন রাত-দিন। কিন্তু বেতন চালু না থাকায় তাঁদের ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এমন শিক্ষক বিদায় দিতে যেমন কষ্ট পাচ্ছেন, তেমনি এমন শিক্ষক ভবিষ্যতে পাওয়া নিয়েও শঙ্কা আছে।

১১.শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেকেই অভাবের কথা প্রকাশ করতে না পেরে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

১২.করোনার কারণে অধ্যয়নরত ছাত্রদের কোরআন হিফজ করতে বেশি সময় লাগবে এবং আগের মুখস্থ করা অংশ পুনরুদ্ধারে বেশ বেগ পেতে হতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় হিফজ বিভাগে অবস্থান করায় তাদের অনেকের মাওলানা হওয়া কঠিন হবে। এটি তাদের কর্মক্ষেত্র ও বিয়েশাদিতে প্রভাব ফেলবে।