করোনা: ‘দ্বিতীয় ধাপে সংক্রমণের সঙ্গে লড়ছে দক্ষিণ কোরিয়া’

20

সবশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণের সঙ্গে লড়ছে দেশ।

করোনাভাইরাসে প্রাদুর্ভাবের শুরুতে অন্যতম আক্রান্ত দেশ ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। একটা পর্যায়ে আক্রান্তে শীর্ষে থাকা এই ভাইরাসের উৎপত্তি দেশ চীনের পরেই ছিল তাদের অবস্থান। তবে দারুণ দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। এ ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে তাতের ‘ট্রেস, টেস্ট অ্যান্ড ট্রিট’ প্রোগ্রাম।

পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় মে মাসের শুরুতে একদিনের সরকারি ছুটির পর দিন থেকে লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব ও অন্যান্য বিধিনিষেধ শিথিলের ঘোষণা দেয় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। এরপর থেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরছিল দেশটি।

গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিদিন গড়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়া লোক ধরা পড়ে গড়ে ৩৫ থেকে ৫০ জন। আক্রান্তদের অধিকাংশই রাজধানী সিউলের বাসিন্দা। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়বাড়ন্ত।

দেশে অনেক দিন ধরেই দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ চলছে বলে জানালেন কোরিয়ার সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ও প্রিভেনশনের পরিচালক জুং উন-কিয়ং বলেন, “আমাদের বিশ্বাস, মে মাসের হলিডে’র পর থেকেই দেশে দ্বিতীয়ধাপের সংক্রমণ শুরু হয়ে এখনও চলছে।”

মে মাসের শেষ দিকে সিউলে বেশ কিছু এলাকায় করোনাভাইরাসের ‘ক্লাস্টার’ সংক্রমণ দেখা দিলে আবারও সামাজিক দূরত্ব মানতে নির্দেশনা দেয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার নতুন ৪৬ শনাক্ত নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট আক্রান্ত দাঁড়াল ১২ হাজার ৪৮৪ জন। নতুন আক্রান্তদের ৩০ জনই দেশের বাইর থেকে আসা। দেশটিতে মোট আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৪৮৪ জন।

এদিকে সিউলের মেয়র পার্ক উন-সুন সোমবার বলেছেন, নগরীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা আগামী তিন দিনের প্রতিদিনই যদি ৩০ জন অতিক্রম করে তাহলে আবারও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দেবেন তিনি।