পাপুলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ফেঁসে গেছেন কুয়েতের এক নারী ব্যবসায়ীও

25

অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে আটক বাংলাদেশি সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শহীদ ইসলাম পাপুলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ফেঁসে গেছেন দেশটির এক নারী ব্যবসায়ী।

জামানত দিয়ে জামিনে থাকলেও ওই নারী ব্যবসায়ীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিচার বিভাগ।

আরব টাইমস জানায়, কুয়েতের শীর্ষস্থানীয় এক হোম ডেকর কোম্পানির মালিক ওই নারীকে পাপুলের ঘুষ ও অর্থপাচারের সম্পৃক্ত সন্দেহে দেড় ঘণ্টার বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরে ওই নারী ব্যবসায়ীকে দুই হাজার দিনার জামানতে জামিন দেওয়া হলেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় বিচার বিভাগ।

পাপুলের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণকারী কুয়েতি কর্মকর্তাদের একজন ওই নারী ব্যবসায়ীর ভাই। এই নারীর কোম্পানির মূলধনের পরিমাণ আড়াই লাখ কুয়েতি দিনার বলে আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়।

এর আগে ১৭ দিনের রিমান্ড শেষে মানব ও অর্থ পাচার এবং ভিসা বাণিজ্যের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরের এমপি পাপুলকে দেশটির কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে রিমান্ডে টানা ১৭ দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার এমপি পাপুলকে ২১ দিনের জন্য কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ হয়েছে বলে আরব টাইমসের খবরে বলা হয়েছে।

আরবি দৈনিক আল-কাবাস বলেছে, পাপুলের সঙ্গে তার মালিকাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপের কর্মকর্তা মুর্তজা মামুনকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ৭ জুন কুয়েতের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট-সিআইডির হাতে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সাংসদ পাপুলের গ্রেপ্তারের খবর আসে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

প্রথমদিকে সে খবর নিশ্চিত হওয়া না গেলেও দুদিন পরে জানা যায় গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডেও নেওয়া হয় তাকে। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের কুয়েতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে।

এমপি পাপুল রিমান্ডে যা বলেছেন, তা কুয়েতের প্রসিকিউটরদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করছে। দেশটির কর্মকর্তাদের তিনি কীভাবে কত টাকা ঘুষ দেন সেসব কথাও প্রতিবেদনে উঠে আসছে।

কুয়েত টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, কুয়েতের তদন্তকারীরা পাপুলের মদদদাতা হিসেবে ইতিমধ্যে সাতজনকে চিহ্নিত করেছেন। এদের মধ্যে কুয়েতের দুজন বর্তমান এবং একজন সাবেক এমপি রয়েছেন। তবে বর্তমান দুই এমপি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পাপুল তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জানান, তার মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানিতে প্রায় নয় হাজার কর্মী রয়েছে। এদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। লোক নিয়োগে ৩৪টি সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানের চুক্তি রয়েছে বলেও তথ্য দিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।

কুয়েতের যেসব কর্মকর্তাকে পাপুল ঘুষ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা ‘নাজাহা’।