”স্বাস্থ্যমন্ত্রী অফিস করেন না’এই শিরোনামেই গলদ রয়েছে’

1

দৈনিক পত্রিকায় ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী অফিস করেন না’ শিরোনামে যে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ‘পরিবেশিত সংবাদটি মিথ্যা ও জনমনে উস্কানিমূলক।’

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী অফিস করেন না’এই শিরোনামেই গলদ রয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনাটি হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা গত ২৭ মে থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত হোম কোয়ারাইনটাইনে ছিলেন। তার পূর্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব করোনায় আক্রান্ত থাকাকালে আরেক দফা ১৪ দিনের হোম আইসোলেশনে থাকতে হয়েছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। তারপর স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিব আলী নূর সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নানের স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদও করোনায় আক্রান্ত হন। সচিবালয়ে বর্তমানে মন্ত্রীর দপ্তরে ৩ জনসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব, সহকারী সচিব থেকে অন্যান্য কর্মচারীসহ ৪৫ জন করোনায় আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছেন। এরকম অবস্থায় নিয়মিত অফিসে আসার বিপরীতে অনলাইনে নির্দেশনা সমূহ বাস্তবায়নে কাজ করে যাওয়াটাও কম জরুরি নয়।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যদি নিষ্ক্রিয়ই থাকতাম তাহলে কীভাবে মাত্র একটি টেস্টিং ল্যাব থেকে ৬৬টি টেস্টিং ল্যাবে পরিণত হলো, মাত্র ১০০ করোনা পরীক্ষা থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ থেকে ১৯ হাজারে উত্তীর্ণ হলো। মাত্র ১৫ দিন সময়ে বসুন্ধরায় ২০০০ বেড, উত্তর সিটি করপোরেশন মার্কেট ও উত্তরার দিয়া বাড়িতে মোট প্রায় ৩০০০ বেড, আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, শিকদার মেডিকেলের মতো বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা শুরু হলো? শুধু ঢাকায় থাকা কিছু আইসিইউ সুবিধাকে কিভাবে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হলো। মাত্র ১০ দিনে ২০০০ নতুন চিকিৎসক ও প্রায় ৬ হাজার নতুন নার্স নিয়োগ হলো?’

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দপ্তরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক অনির্ধারিত বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘এই দুঃসময়ে কাজ করতে কেবল সচিবালয়ে এসে বসে থাকাই মন্ত্রীর একমাত্র কাজ নয়। বরং দেশের কোনো হাসপাতালে কি কাজ হচ্ছে, মানুষ হাসপাতাল থেকে বিনা চিকিৎসায় ফিরে যাচ্ছে কিনা, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা এগুলো দেখভাল করে ও খোঁজ নিয়ে যথার্থ উদ্যোগ নেয়াটাই এখন আসল কাজ।’

খবর: ইউএনবি।