আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে বিশেষ সুবিধা দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক

277

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চরম অর্থ সঙ্কটে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এবার ব্যাংক বহির্ভূত এই এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

করোনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের তারল্য সহায়তা দিতে নগদ জমার হার (সিআরআর) এরই মধ্যে কমানো হয়েছে। এখন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে তারল্য সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার শিথিল শর্তে প্রণোদনার তহবিল থেকে ২ হাজার কোটি টাকা এবং ঋণ নবায়নে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। যদিও ব্যাংকের মতো এসব প্রতিষ্ঠানের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা বা অন্যান্য সুবিধার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

গতকাল (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেওয়া হয়। সেসব দাবির অধিকাংশই মেনে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার কমানোর কোনো কথা বলা হয়নি। যদিও করোনাভাইরাসের এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় অধিকাংশ ব্যাংক গত এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণে সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের আগের মতোই যেখানে ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ সুদ গুণতে হচ্ছে।

জানা গেছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ২ হাজার কোটি টাকার প্রিফাইন্যান্স করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করবে। ব্যাংকগুলোকে যেখানে একশ’ টাকা বিতরণের পর ৫০ টাকার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে হয়। আর কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের নিশ্চয়তাপত্র বা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে পারলে তার বিপরীতে তারল্য সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বিষয়ে এসব প্রতিষ্ঠান অর্থমন্ত্রণালয়ে আবেতন করবে। তাতে সুপারিশ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া ব্যাংকগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যে অর্থায়ন করে সাধারণ গ্রাহকদের মতো তাতে যেন সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনে এবং আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে না নেয় সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বলে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ নবায়নে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঋণের মোট মেয়াদেও তুলনায় সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ মেয়াদ বাড়াতে পারে। তার মানে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৬ বছর মেয়াদি ঋণে সর্বোচ্চ ১৫ মাস মেয়াদ বাড়াতে পারে। এই শর্ত শিথিল করে ৫০ শতাংশ তথা ৩০ মাস বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আর স্বল্প মেয়াদি ঋণের পুরো অর্থ সমন্বয় না করে শুধু সুদ আদায় করে নবায়ন করা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) চেয়ারম্যান ও আইপিডিসি ফাইন্যান্সের এমডি মমিনুল ইসলাম জানান, বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের জন্য এটা খুব ভালো খবর। অবশ্য যে পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরো খাতের বদনাম হচ্ছে তারা এই সুবিধা পাবে না। আর ওই ৫টি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার বিষয়ে আজ (বুধবার) গভর্নর বরাবর একটি রূপরেখা দেওয়া হবে। সে আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনাভাইরাসের এসময়ে আয় কমাসহ নানা কারণে এমনিতেই সঞ্চয় তুলে ভেঙ্গে ফেলছেন অনেকে। এর মধ্যে আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের চরম খারাপ অবস্থার কারণে আস্থাহীনতাসহ নানা কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সেভাবে আমানত পাচ্ছে না। অনেক ব্যাংক এখন নিজেদের জমানো অর্থ তুলে নিচ্ছে।

এরকম অবস্থায় তারল্য সঙ্কটে ভুগছে অধিকাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। যে কারণে সাধারণ নিয়মে সরকারের সুদ ভর্তুকীর আওতায় প্রণোদনার অর্থ বিতরণ করার মতো অবস্থায়ও নেই। এরকম বাস্তবতায় এসব প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে এসব সুবিধা দেওয়া হলো।

সূত্র: ইনকিলাব