জাপানে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে

12

জাপানে প্রবল বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আরও অনেকে নিখোঁজ বলে রবিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

টানা বৃষ্টির কারণে দেশটির দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে কিউশো পার্বত্য এলাকার কুমামোতোয় ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। ভেঙে পড়েছে ওই এলাকা অনেক ঘরবাড়ি। বন্যার পানিতে ভাসতে দেখা গেছে অনেক যানবাহন। ভেঙে গেছে অনেক সড়ক সংযোগ সেতু। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক সেতু। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কুমামোতো অঞ্চলের বাসিন্দারা।

বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ২ লাখের বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে যাতে আবার করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু না হয় সে জন্য সবাইকে বারবার হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব মানার নির্দেশনা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রায়োতা তাকেদা সাংবাদিকদের বলেছেন, “সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সেই সঙ্গে যাদের বাড়ি ছেড়ে এখানে আসতে হয়েছে তাদের যতটা সম্ভব আরামদায়ক বসবাসের নিশ্চয়তা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।”

জাপানের জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকেতে বলা হয়েছে, বন্যা ও ভূমি ধসে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু তাদের অফিশিয়াল ডেথ সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা হয়েছে, হৃৎ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এই কুড়ি জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪ জন বন্যায় ভেসে যাওয়া একটি নার্সিং হোমের বাসিন্দা।

তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো জানাতে পারেনি কুমামোতোর স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তারা ও মিউনিসিপ্যাল অফিস।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে স্থানীয় কুমা নদীর আশপাশের বাসিন্দারা। উদ্ধারকর্মী ও সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা বোট ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, জাপানের রবিবার সন্ধ্যার দিকে আবারও বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। তাতে বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বরে ধারণা করা হচ্ছে।