‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’কে’ অ্যাম্বুলেন্স কিনে দিয়েছে সাকিব আল হাসান

14

২৮ বছরের এক তরুণ নিজের হাতে গড়েছেন মাস্তুল ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই করোনাকালে তারা লড়ছেন মানুষের জন্য। ফেইসবুক হয়ে সেই খবর যায় সাকিবের কাছে। বিদেশে থাকা সাকিব সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স কিনে দিয়ে কাজী রিয়াজ রহমান নামের ওই তরুণকে ফোন করেন।

‘ভাইয়ার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। উনি বলেছেন আমি তো দেশে নেই, তেমন কিছু করতে পারছি না। তোমরা কাজ করে যাও। আমি আছি,’ দেশ রূপান্তরের সঙ্গে সোমবার ফোনে আলাপকালে এভাবে সাকিবের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা জানাচ্ছিলেন কাজী রিয়াজ রহমান।

ফেনির চিথলিয়া ইউনিয়নের ছেলে রিয়াজ পরিবার নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডিতে থাকেন। সেখানেই স্থায়ী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে মাস্টার্স করেছেন। এখন নিজেই একটি ফাউন্ডেশনের কর্ণধার। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশব্যাপী নানা ধরনের কাজ করছেন তিনি।

সাকিবের অ্যাম্বুলেন্স দেয়ার খবর জানা গেছে এদিন সকালে। কিন্তু তিনি এর ব্যবস্থা করেন মূলত গত মাসের ১৫ তারিখ।

রিয়াজ রহমান জানালেন, সাকিব নিজে থেকে ঘোষণা দেয়ার আগে তিনি কাউকে কিছু বলতে চাননি।

‘আমরা আসলে ফেইসবুকে নিজেদের কাজের কথা মানুষকে জানাচ্ছিলাম। এটি চোখে পড়ে সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ব্যারিস্টার চিশতি ইকবালের। তিনি লন্ডন প্রবাসী। উনিই সাকিব ভাইকে আমাদের ব্যাপারে বলেন।’

সাকিব নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, মাস্তুল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান। মাস্তুলের নিজস্ব স্কুলও আছে। তারা ২২ টি স্কুলে, ১২ জেলায় ১ হাজার ১০০ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ, জুতা, মোজা, বই, খাতাসহ বিভিন্ন শিক্ষার উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে। মাস্তুলের পিতামাতাহীন/অনাথ/এতিম বাচ্চাদের জন্য ‘মাস্তুল শেল্টার হোম’ আছে।

তাদের শেলাই প্রশিক্ষণ-কেন্দ্র আছে, যার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কর্মক্ষম করে তোলা হচ্ছে।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন থেকে মৃত ব্যক্তিদের জানাজা, দাফন কাফন কার্যক্রম ও সৎকার করা হয়ে থাকে। অসহায় ও গরিবদের জন্য তারা ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকে।

অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও মাস্তুল ফাউন্ডেশনে সহযোগিতার জন্য এই নম্বরে (01730482279, 01715097762) যোগাযোগ করতে আহ্বান জানিয়েছেন সাকিব।

সূত্র: দেশ রূপান্তর