৫ কোটি টাকায় ট্রেক বিক্রির সিদ্ধান্ত নিল ডিএসইর পর্ষদ

21

বিতর্কের মুখে ৫ কোটি টাকা নিবন্ধন ফিতে ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) বিক্রির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ।

বুধবার (৮ জুলাই) ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ২ জুলাই ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নতুন ট্রেক ইস্যু করার ক্ষেত্রে ২ কোটি টাকা নিবন্ধন ফি ঠিক করা হয়েছিল। তবে এতে আপত্তি জানিয়েছিলেন সভায় অংশ গ্রহণ করা ৩ জন শেয়ারহোল্ডার পরিচালকর মধ্যে শাকিল রিজভী এবং মোহাম্মদ শাহজাহান। ফলে আজকের সভায় ট্রেক নিবন্ধন ফি ২ কোটি টাকা অনুমোদনের জন্য তোলা হলেও অবশেষে ৫ কোটি টাকাই সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত করেছে ডিএসইর পর্ষদ।

৬ দিন আগে ট্রেক নিবন্ধন ফি ২ কোটি টাকা ঠিক করলেও আজ নানা চাপে ৫ কোটিতে ফিরতে বাধ্য হয়েছে ডিএসইর পুরো পর্ষদ। তবে ৫ কোটিতে ফেরার কারন হিসেবে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের দূর্ঘটনাকে দেখিয়েছেন পর্ষদের কেউ কেউ।

আজ ট্রেক নিবন্ধন ফি ৫ কোটিতে উন্নিত করার পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জে জামানত রাখার পরিমাণ ৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর ট্রেক পেতে আবেদন ফি ১০ লাখ টাকা ও পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকাই রাখা হয়েছে।

তবে ডিএসইর বর্তমান ট্রেকহোল্ডারদের মধ্যে প্রায় ৯০টি প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন ৩ কোটি টাকার নিচে রয়েছে। তাই নতুন ট্রেক ইস্যুর ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি বা যে পরিমাণ করা হবে, বিদ্যমান ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠানগুলোরও একই পরিমাণে উন্নিত করা বাধ্যতামূলক করতে হবে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইর আজকের পর্ষদের ট্রেক নিয়ে নির্ধারিত ফিসহ অন্যান্য বিষয়গুলো প্রস্তাবিত আকারে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নিকট পাঠানো হবে।

ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইনের ১৬ এর ৫ ধারায় বলা হয়েছে, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের তারিখ হইতে ৫ বছর অতিক্রান্ত হবার পরে স্টক এক্সচেঞ্জ নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদনকারীর অনুকূলে ট্রেক ইস্যু করা যাইবে। কিন্তু ডিএসই ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর ডিমিউচ্যুয়ালাইজড হওয়ার পরে প্রায় সাড়ে ৬ বছর পার হয়ে গেলেও স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে ট্রেক ইস্যু করার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তবে বিএসইসি ডিএসইর পর্ষদের সম্মতি নিয়ে ট্রেক ইস্যুর লক্ষ্যে জনমত যাচাইয়ের জন্য খসড়া বিধিমালা প্রকাশ করেছিল। এতে ডিএসইর পর্ষদের ৩ জনের আপত্তি থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সম্মতি ছিল।

ওই খসড়া বিধিমালা প্রকাশের উপর ভিত্তি করে গত ২৩ জুন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গেজেটে নিবন্ধন ফি ৫ লাখ টাকা ও আবেদন ফি ১ লাখ টাকা আছে। এছাড়া ট্রেক নেওয়ার জন্য কমপক্ষে ৩ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে এবং স্টক এক্সচেঞ্জে ২ কোটি টাকা জামানত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোম্পানি, কমিশনের অনুমোদিত কোন প্রতিষ্ঠান বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেক কিনতে পারবেন। শেয়ার বেচা-কেনা করে দেওয়ার জন্য এই ট্রেক পাওয়া যাবে। তবে এই ট্রেকের মালিক স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডার হবেন না। শুধুমাত্র শেয়ার ও ইউনিট বেচা-কেনা করার সুযোগ পাবেন। কোন প্রতিষ্ঠান ট্রেক পেলে তা হস্তান্তর করা যাবে না। আবার নিবন্ধন পাওয়ার এক বছরের মধ্যে সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা ২০০০ অনুযায়ী স্টক-ডিলার বা স্টক-ব্রোকার’র সনদ নিতে হবে। এই সনদ নেয়ার ৬ মাসের মধ্যে ব্যবসা শুরু করতে না পারলে ট্রেক বাতিল হয়ে যাবে।