তৃতীয় মেয়াদে ফের গভর্নর হলেন ফজলে কবির

3

পুনরায় দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেলেন ফজলে কবির। এ নিয়ে তাকে তৃতীয় মেয়াদে নিয়োগ দিল সরকার।

বুধবার (১৫ জুলাই) অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মো. জেহাদ উদ্দিন সই করা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পূর্বে ফজলে কবিরকে নিয়োগ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২’ বিলে সংশোধন আনা হয়। সংশোধনের পূর্বে গভর্নরের বয়স সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬৫ বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। নতুন সংশোধনীতে তা ৬৭ বছর করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ (প্রেসিডেন্ট অর্ডার নং ১২৭) যা বাংলাদেশ (অধ্যাদেশ) আইন, ২০২০ দ্বারা সংশোধিত অনুচ্ছেদ ১০(৩) এবং ১০(৫) এর বিধান অনুযায়ী ফজলে কবিরকে তার বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ৩ জুলাই ২০২২ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। আরও বলা হয়, ফজলে কবির গর্ভনর পদে নিয়োজিত থাকাকালীন সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত মোতাবেক বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি বাংলাদেশ ব্যাংক হতে গ্রহণ করবেন। এ নিয়োগের অন্যান্য বিষয় উল্লিখিত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে।

জানা গেছ, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার’১৯৭২ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চুরি ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন। এরপরই ফজলে কবিরকে চার বছরের জন্য গভর্নর নিয়োগ দেয় সরকার। তখন তিনি বিদেশে ছিলেন এবং ফিরে এসে দেশের ১১তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন ২০ মার্চ। গত ১৯ মার্চ তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গভর্নর হিসেবে ফজলে কবিরের মেয়াদ তিন মাস ১৩ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেয় সরকার।

এতে বলা হয়, ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি গভর্নর। এজন্য ৬৫ বছরে পদার্পনের দিন শুক্রবার হওয়া সত্বেও তাকে গত ৩ জুলাই পর্যন্ত সময়ের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই ফজলে কবিরকে পূনরায় নিয়োগ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২’ এ সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য চলতি সংসদে অর্ডারে দুটি সংশোধনী আনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারকে আইনে রূপান্তরিত করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) অ্যাক্ট, ২০২০ নামে অভিহিত হবে।

অপরটি হচ্ছে গভর্নরের বয়স সংক্রান্ত স্থানে ৬৫ বছরের পরিবর্তে ৬৭ হবে। এজন্য গত ৮ জুলাই সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্ত ফা কামালের পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (অ্যামেন্ডমেন্ট) এক্ট-২০২০’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। সাধারণত সংসদে বিল উত্থাপনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠান। তবে এই বিলের ক্ষেত্রে সেটি হয়নি।