করোনা সংকট কাটিয়ে দেশ আবারো সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী

10

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আমাদের সব অগ্রযাত্রা সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে। আমি আশা করি জনগণ এ থেকে বেরোতে পারবে, আবার আমরা ঘুরে দাঁড়াব। এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশের না, বিশ্বব্যাপী। কাজেই সবাই যেন এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দেশব্যাপী এক কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী ১ কোটি বৃক্ষের চারা রোপণের এ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস আমাদের সকল অগ্রযাত্রা সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে। এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশের না, বিশ্বব্যাপী। কাজেই সবাই যেন এই সমস্যা কাটিয়ে তুলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশে বনায়ন সৃষ্টি। আমি যখন ৯৬ সালে সরকার গঠন করি তখন মাত্র সাত ভাগ বনায়ন ছিল। আজ প্রায় ১৭ ভাগের উপরে আমরা করতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য সারা বাংলাদেশে ২৫ ভাগ বনায়ন করব। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, এর বাইরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সেই ৮৪ সালে আমরা কাজ শুরু করি। ৮৪ থেকে শুরু করে আমরা প্রতিবছর পহেলা আষাঢ় সমগ্র বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণ করি। আমাদের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের ওপর দায়িত্ব থাকে। কৃষকলীগ এই উদ্যোগটা নেয় এবং সকল সহযোগী সংগঠন মিলে আমরা বৃক্ষরোপণ করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি আমাদের দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশটা রক্ষা হওয়া দরকার। পাশাপাশি দেশের মানুষের পুষ্টির দরকার। আমরা তাদের খাদ্য এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার কথা চিন্তা করি।

আমি নির্দেশনা দিয়েছি শুরু থেকেই যে তিনটা গাছ লাগাতে হবে। একটা ফলের গাছ। একটা কাঠের জন্য যেটা আর্থিক সচ্ছলতা আনবে। আরেকটা ভেষজ গাছ। অর্থাৎ যে গাছ দিয়ে নানা ধরনের ওষুধ তৈরি হয়, সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এই ধরনের গাছ।

সবাইকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি সবাইকে আহ্বান করব, যে যেখানে আছেন আপনার যতটুকু জায়গা আছে একটা গাছ লাগান। অথবা যারা শহরে থাকেন ছাদে বা বারান্দায় একটা টবে গাছ লাগান।

যেভাবেই হোক একটু গাছ লাগালে ভালো লাগবে। মনটাও ভালো লাগবে। আর কিছুটা আপনার নিজের সচ্ছলতা আসবে আর নিজের হাতে লাগানো একটা গাছের একটা কাঁচামরিচ খেলেও কিন্তু ভালো লাগে। কাজেই সেইভাবে আমি আহ্বান করব- আসুন আমরা সবাই মিলে গাছ লাগাই। আমাদের দেশটা একটা বদ্বীপ, এই দেশটাকে আমরা রক্ষা করি এবং দেশটাকে উন্নত করি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি নির্দেশনা দিয়েছি শুরু থেকেই যে তিনটা গাছ লাগাতে হবে। একটা ফলের গাছ। একটা কাঠের জন্য যেটা আর্থিক সচ্ছলতা আনবে। আরেকটা ভেষজ গাছ। অর্থাৎ যে গাছ দিয়ে নানা ধরনের ওষুধ তৈরি হয়, সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এই ধরনের গাছ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমি লাগিয়েছি একটা চালতা গাছ, তেঁতুল গাছ আর একটা ছাতিয়ান গাছ। ছাতিয়ান গাছ খুব বড় হয়। এর কাণ্ড খুব মোটা হয় এবং কাঠ হিসেবে খুব ভালো। সে জন্য ওটা লাগানো হয়েছে। আর তেঁতুলের শক্তি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এটা যেমন কারও যদি প্রেসার থাকে সে প্রেসারের জন্য ভালো। তাছাড়া এমনিতে শরীর ঠান্ডা রাখা। তেঁতুল অনেক কাজে লাগে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশ থেকে তেঁতুলের জাতটা ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তবে এটার চাহিদা আছে। আর ফুচকা-চটপটি তো সবার খেতে ভালো লাগে। সে জন্য তেঁতুল সবসময় দরকার। সে জন্য আমি তেঁতুল গাছের ওপর একটু জোর দিয়েছি। আর চালতাটাও। চালতার পাতাগুলো যেমন সুন্দর দেখতে ফুল আরও সুন্দর। চালতার আবার অনেকগুণ রয়েছে। ডালে চালতা দিয়ে খেতে তো এমনি মজা লাগে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি, প্রবাসীদের প্রতি এবং বিশ্বনেতাদের প্রতি। সেই সাথে আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের সংগঠন বিশেষ করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতি। সেদিন ঢাকা মহানগর থেকে শুরু করে আমাদের সকল সহযোগী সংগঠন প্রতিবাদ করেছিলেন।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ২৫ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করে সেটা তত্ত্বাবধায়কের প্রধান উপদেষ্টাকে দিয়েছিল। তাদের এই সমর্থন দিয়েছিলেন বলেই জাতীয়-আন্তর্জাতিক চাপে আমাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। যদিও আমার বিরুদ্ধে বিএনপির আমলে ১২টা মামলা দেওয়া হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারে আমলে আরো ৫টি মিথ্যা মামলা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, সেদিন আমি বলেছি তদন্ত করে দেখতে হবে যে আমি দুর্নীতি করেছি কিনা? ঠিক সেটাই করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে আমি মুক্তি পেয়েছিলাম। দেশের জন্য, জাতির জন্য কাজ করা এটা আমার পিতা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে শিখেছি। যেকোনো প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করে চলা আর সৎ পথে থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণ করা এটা বাবার কাছ থেকেই শিখেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তার আদর্শে বাংলাদেশকে গড়তে চাই ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে। এই বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। করোনার কারণে আমাদের সকল স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়েছে। আশাকরি জনগণ এর থেকে মুক্তি পাবে।