ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স পূর্ণ করেছে ৬ বছর

14

কোভিড-১৯ এর মহামারীর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস পূর্ণ করেছে ছয় বছর। ১৭ জুলাই ইউএস-বাংলা পা রেখেছে সাত বছরে।

সংস্থাটি জানায়, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস যাত্রা শুরু করেছিল ছয় বছর আগে ৭৬ আসন বিশিষ্ট দু’টি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-যশোর ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে। শুরু থেকেই নিজস্ব ক্যাটারিংসহ অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইন-ফ্লাইট সার্ভিস ছিল তাদের।

এরপর অভ্যন্তরীণ রুট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, বরিশাল, রাজশাহীতে ফ্লাইট পরিচালনা করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। শুরুর দু’বছরের মধ্যে ১৫ মে ২০১৬ তারিখে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মধ্যেমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যাত্রা শুরু করে তারা। বর্তমানে ঢাকা থেকে কলকাতা, চেন্নাই, মাস্কাট, দোহা, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজু রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে এয়ারলাইনসটি।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা, চেন্নাই, মাস্কাট ও দোহা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে তারা। ভবিষ্যতে আবুধাবী, জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম, দুবাই, হংকং, দিল্লী রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানায়।

তারা জানায়, বর্তমানে ইউএস-বাংলার বিমান বহরে মোট তেরটি এয়ারক্রাফট রয়েছে। যার মধ্যে ১৬৪ আসনের চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, ৭২ আসনের ছয়টি ব্র্যান্ডনিউ এটিআর ৭২-৬০০ এবং ৭৬ আসনের তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট আছে। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের।

যাত্রীসেবার অনন্য নজির স্থাপন করায় স্বীকৃতিস্বরূপ দেশে-বিদেশে বর্তমানে প্রায় ১৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসে। নিয়মিত ট্যাক্স-সারচার্জ পরিশোধ করে আছে তারা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করে চলেছে। বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

ইউএস-বাংলার টিকেট সংগ্রহ করার জন্য রয়েছে ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপস্ বুকিং সুবিধা। রয়েছে হোম ডেলিভারী সুবিধাও। সারাদেশে নিজস্ব ৩০টির অধিক সেলস অফিস রয়েছে। এ ছাড়া কলকাতা, চেন্নাই, মাস্কাট, দোহা, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, গুয়াংজু, টরেন্টো, নিউইয়র্ক এ নিজস্ব সেলস অফিস আছে তাদের। ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ারদের জন্য রয়েছে স্কাইস্টার প্যাকেজ। যার মাধ্যমে শুধু টিকেটেই সুবিধা পাবে না বরং যাত্রীরা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ক্রয়ে ডিসকাউন্ট সুবিধাও পেয়ে থাকে।

স্বাধীনতার পর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসই একমাত্র দেশীয় বিমান সংস্থা যা, চীনের কোনো গন্তব্যে বা ভারতের চেন্নাই-এ সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যাত্রীদের বেশ কয়েকটি স্পেশাল সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা, যা অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এভিয়েশন শিল্পে। উল্লেখযোগ্য সার্ভিসগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরনের পর ১৫ মিনিটে ল্যাগেজ ডেলিভারি, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ২০ শতাংশ, সামরিকবাহিনীর কর্মকর্তা ও গলফারদের জন্য ১০ শতাংশ মূল্যছাড়সহ আরো নানাবিধ সুবিধা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস শুধু যাত্রী পরিবহন করে না, বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্গোও পরিবহন করে থাকে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দেশের বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খেলাধূলার উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে। “ফ্লাই ফাস্ট-ফ্লাই সেফ” স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সেবা দিয়ে আসছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন ৭ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা যেকোনো প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। বর্তমান বিশ্বে যাত্রীদের সঠিক সেবা প্রদান করার জন্য ব্র্যান্ডনিউ এয়ারক্রাফটের কোনো বিকল্প নেই। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস যাত্রীদের আরামদায়ক সেবাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করে চলেছে। ইউএস-বাংলা একমাত্র দেশীয় বিমান সংস্থা, যারা অভ্যন্তরীণ রুটে ব্র্যান্ডনিউ এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের সাফল্যে ভরা ছয় বছরেরসঙ্গে যে সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্ট, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন কর্পোরেট অফিস, বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিক, সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

সূত্র: দেশ রূপান্তর