সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে র‌্যাবের হটলাইন চালু

9

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের প্রতারণা, নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকলে তাদের আইনি সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে র‌্যাব। সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য একটি হটলাইন চালু করেছে তারা। পাশাপাশি একটি ই-মেইল অ্যাড্রেসও দেওয়া হয়েছে, যেখানে আলোচিত এই ‘প্রতারকের’ বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানানো যাবে।

শুক্রবার র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতারক সাহেদের ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা যে কোনো তথ্য- অভিযোগ বা আইনি সহায়তা চাইলে র‌্যাব সদর দপ্তরের তদন্ত উইংয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। এজন্য হটলাইন নম্বর- ০১৭৭৭৭২০২১১ এবং rabhq.invest@gmail.com এই মেইলে যোগাযোগ করা যাবে।

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ তার রিজেন্ট গ্রুপের আওতায় বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করছিলেন। ফেইসবুকে সরকারের নানা মন্ত্রী-এমপি, আমলা ও রাজনীতিকদের সঙ্গে ছবি দিয়ে রাখা সাহেদ ‘প্রভাব খাটিয়ে’ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

উত্তরা ও মিরপুরে তার দুই হাসপাতালে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার অনুমতি নিয়েছিলেন সাহেদ। এই সুযোগে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য মানুষের কাছ থেকে তিন-চার হাজার টাকা করে নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছিল তার প্রতিষ্ঠান থেকে। তবে পরীক্ষা ছাড়াই করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার প্রমাণ পেয়ে গত ৬ ও ৭ জুলাই তার হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব।অভিযানে আরও অনিয়ম বেরিয়ে পড়লে আত্মগোপনে যাওয়া সাহেদকে বুধবার ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় র‌্যাব।

সাহেদ ফেরারি হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৯১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা হয়। ঢাকায় কাগজপত্রহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশার রুট পারমিট নিয়ে দেওয়ার কথা বলে তিনি ওই অর্থ নিয়েছেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীর।

এরপর বুধবার সকালে গ্রেপ্তারের পর সাহেদকে ঢাকার উত্তরায় র‌্যাবের অফিসে নেওয়া হলে সেখানে গিয়ে হাজির হন আরও কয়েকজন। বিভিন্ন সময়ে সাহেদের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। সিলেটের এক পাথর ব্যবসায়ী বলেছেন, তার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকার পাথর কিনে এনে কম টাকায় বিক্রি করে পুরো টাকাটা মেরে দিয়েছেন সাহেদ।

সিলেটেরই আরেকজনের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে রিজেন্ট হাসপাতালে সিকিউরিটি ইনচার্জের চাকরি দিয়ে তার কাছ থেকে জামানতের এক লাখ টাকা নেন সাহেদ। পরে তিন মাসেও বেতন না দেওয়ায় চাকরি ছেড়ে তিনি জামানতের টাকা ফেরত চাইলে তাকে মারপিট করে মিথ্যা চুরির মামলায় পুলিশে দেওয়া হয়। দুই মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি।

সূত্র: শেয়ার বিজ