প্রবাসীদের মাধ্যমে ছড়িয়েছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট

১৫

দেশে প্রবাসীদের মাধ্যমে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়েছে। কারণ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ অন্যান্য দেশ থেকে আসা যাত্রীদের সঠিকভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে পারেনি। ফলে বর্তমানে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের চেয়ে করোনার নতুন এই ধরন ৭০ শতাংশ বেশি গতিতে ছড়ায়। যার ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই নতুন এই ভাইরাসটি যাতে দেশে না ঢোকে বিভিন্ন দেশ সেই চেষ্টাই করছে। কিন্তু বাংলাদেশে এর কোনো তৎপরতা ছিল না। একারণে বিদেশফেরত যাত্রীরা বিমানবন্দর থেকে কোয়ারেন্টাইনে না থেকে বাসায় গেছেন। আর তারা বাসায়ও কোয়ারেন্টিনে না থেকে ঘুরে বেড়িয়েছেন। যার খেসারত এখন সবাইকে দিতে হচ্ছে।

এবিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ভাইরাস মানুষের জীবন কেড়ে দিচ্ছে। এরপরও অনেকে তোয়াক্কা করছে না। আর কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না এবং মাস্কও পরছে না।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ড. সমীর সাহা বলেন, করোনার বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট আমরা লক্ষ্য করছি। যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলিয়ান ভ্যারিয়েন্ট। পাশাপাশি দেশে রাশিয়া ও সৌদি আরব ভ্যারিয়েন্টও পাওয়া গেছে। তাই এখন করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

একই বিষয়ে আইইডিসিআরের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুশতাক আহমেদ বলেন, যেসব দেশ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছে তারাই করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানেনি তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এরমধ্যে বাংলাদেশ একটি। স্বাস্থ্যবিধি সবার মেনে চলতেই হবে। আর সরকার লকডাউন দিচ্ছে। এটা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টিনে রাখতে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সারা দেশে তারা ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে নতুন রোগীর শনাক্তের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১০ দিন ধরে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যুর তথ্য দিচ্ছে। গত ১০ দিনে ৫৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চার দিন ধরে মৃত্যু ৬০’র ওপরে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে রোগী শনাক্ত হয় ৭৪৬২ জন। এই সময় দেশের ২৪৩টি ল্যাবরেটরিতে ৩১ হাজার ৮৭৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ৩১ হাজার ৫৬৪টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪১২টি। পরীক্ষায় নতুন ৭ হাজার ৪৬২ জনসহ এখন পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এসময় নতুন ৬৩ জনসহ মোট ৯ হাজার ৫৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৫১১ জন। এ পর্যন্ত মোট ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫৪১ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। আর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।