রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: ৮ বছরেও নেই বিচারের অগ্রগতি

8

আট বছর আগে মামলা, অভিযোগ গঠনেরও প্রায় পাঁচ বছর হতে চলল তবুও সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়নি। এর মধ্যে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর তারিখ পিছিয়েছে ২৫ বারের মত। ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন মামলাটিতে আগামী ৫ মে আবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রয়েছে।

তবে মামলাটির কার্যক্রমের ওপর দুই আসামি হাই কোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে রাখায় এটির বিচার শুরুর প্রক্রিয়ার জট এখনও খোলেনি। এতে হত্যা মামলাটির বিচার থেমে আছে। মামলা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তারাও সুস্পষ্ট করে বলতে পারছেন না, কবে নাগাদ ৩৮ জন আসামির মধ্যে মাত্র দুই জনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন যদিও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজার ১৩৬ জন। আহত হয়েছিলেন আরও সহস্রাধিক শ্রমিক। এ ঘটনায় পরদিন সাভার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ ভবন নির্মাণে ‘অবহেলা ও ত্রুটিজনিত হত্যা’র অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।

২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় অভিযোগ পত্রে ৫৯৪ জনকে সাক্ষী করা হয়। আসামি ৪১ জনের মধ্যে তিন আসামি মারা যান। বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৩৮ জন।

২০১৬ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করলেও এখন পর্যন্ত একজনেরও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মিজানুর রহমান বলেন, ‘হত্যা মামলাটির অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন ছয়জন আসামি। আবেদনের প্রেক্ষিতে ছয়জনের স্থগিতাদেশ দেন উচ্চ আদালত। পরবর্তীতে চারজনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়। কিন্তু দুই আসামি সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রেফাত উল্লাহ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার হাজি মোহাম্মদ আলীর পক্ষে এখনও স্থগিতাদেশ থাকায় মামলাটির বিচার কার্যক্রম বা সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস কক্ষে চারবার লিখিত আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু তার কোনো উত্তর পাইনি।’